
সিলেট ও সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও অবনতি হতে পারে।
একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশের বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী, মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা, খোয়াই নদীর বাল্লাহ, মনু নদীর মনু রেল-ব্রিজ ও মৌলভীবাজার এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
তবে ভারতের উত্তরপ্রদেশে অবস্থানরত লঘুচাপটি ক্রমে দুর্বল হয়ে আসছে।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। তবে গোমতী, মুহুরী, ফেনী ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
প্লাবিত হতে পারে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু এলাকাও।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি কমার আভাস থাকলেও সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও ভোগাই-কংস নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও সতর্কসীমায় পৌঁছে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে।