আমাদের বলা হয়েছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাতটি কলেজের জন্য আলাদা প্রশাসনিক ভবন করে দেওয়া হবে। বিনিময়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে সরে আসতে হবে। আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।
শুরু থেকেই আমরা বলে এসেছি, একাডেমিক কিংবা রাজনৈতিক—কোনো ক্ষেত্রেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একক আধিপত্য মেনে নেব না। একটি দেশ কখনোই শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। আমরা এই বৈষম্যের অবসান চাই।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৬-এর মধ্য দিয়ে আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে। এখন ছাত্রসংগঠনগুলোকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকেন্দ্রিক রাজনীতি আর নয়, আমরা নিজেদের টিএসসিকেন্দ্রিক রাজনীতি চাই। একই সঙ্গে সব সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির যোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
শুরু থেকেই আমরা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছি। আমাদের লক্ষ্য, উচ্চশিক্ষায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একক আধিপত্য ও নির্ভরশীলতার অবসান ঘটানো।
আমার কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, জুলাই বিপ্লবে চারজন শহীদ দিয়েছে। আমার কলেজের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছাত্রদলের চার-পাঁচজন নেতাকর্মী অতীতে গুমের শিকার হয়েছেন। আমাদের ত্যাগ ও অবদান উপেক্ষা করে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না।
জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ফসল ফলানো পর্যন্ত সব কাজ করবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, আর ফসল ঘরে তুলবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—এই নিয়ম আর চলতে পারে না।
আজ যারা ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে আছেন, তাঁরা যদি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা না-ও রাখেন, পরশু অন্য কেউ ঠিকই তা প্রতিষ্ঠা করবে। কারণ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইনেই সেই পথ তৈরি হয়েছে।


 (1).jpg)



















