ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

ওবামা থেকে ওসামা, সবার পছন্দ এই ঘড়ি

আরিফ আহমেদ তূর্য
আরিফ আহমেদ তূর্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
ওবামা থেকে ওসামা, সবার পছন্দ এই ঘড়ি
ঘড়িটির নকশাকার রিউসুকে মোরিয়াই। ক্যাসিওতে এটিই ছিল তার প্রথম কাজ। প্রতীকী ছবি
কালো রঙের ছোট্ট একটি ডিজিটাল ঘড়ি। দাম কম, চেহারায় সাদামাটা। তবু এটি পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত ঘড়িগুলোর একটি।

পুরোনো বাজারের ঘড়ির দোকানে দেখা যাবে, কাচের শো-কেসে দামি ব্র্যান্ডের পাশে ঠিক একটি ঘড়ি পড়ে রয়েছে। কালো স্ট্র্যাপ, ধূসর পর্দা, সামনে লেখা ক্যাসিও। মডেল এফ-৯১ডব্লিউ।

কেউ হয়তো ঘড়িটা ফিরেও তাকান না। অথচ এই ঘড়ির পেছনে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত গল্প।

জাপানি প্রতিষ্ঠান ক্যাসিও ঘড়িটি বাজারে আনে ১৯৮৯ সালের জুনে। আগের মডেল ছিল এফ-৮৭ডব্লিউ। এফ-৯১ডব্লিউ ছিল তার উত্তরসূরি।

ঘড়িটির নকশাকার রিউসুকে মোরিয়াই। ক্যাসিওতে এটিই ছিল তার প্রথম কাজ। নিজের নকশা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ঘড়িটি হবে ছোট, চ্যাপ্টা আর সরল।

ঠিক তা-ই হয়েছিল। ওজন মাত্র ২১ গ্রাম। হাতে পরলে প্রায় টেরই পাওয়া যায় না।

ঘড়িটির ফিচার সামান্যই। আছে স্টপওয়াচ, অ্যালার্ম, প্রতি ঘণ্টায় বিপ শব্দ আর ক্যালেন্ডার। অন্ধকারে সময় দেখার জন্য আছে একটি ছোট বাতি।

ব্যাটারি চলে সাত বছর। অনেকের অভিজ্ঞতায় এর বেশিও চলে। সময়ের হেরফের মাসে সর্বোচ্চ ৩০ সেকেন্ড।

স্মার্টওয়াচের যুগে এসব শুনে হাসি পেতে পারে। কিন্তু এই ঘড়ি চার্জ দিতে হয় না। দুই দিন পর পর ঘড়ির খবর নিতে হয় না। হাত থেকে পড়ে গেলেও সহজে ভাঙে না। এটাই এর জাদু।

সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বলছে, প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ এফ-৯১ডব্লিউ তৈরি হয়। তাই একে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ঘড়িগুলোর একটি ধরা হয়। ইউরোপে দাম পড়ে মোটামুটি ১০ থেকে ২৫ পাউন্ড। মধ্যপ্রাচ্যে নাকি আড়াই পাউন্ডেও মেলে।

বাংলাদেশেও ঘড়িটি ব্যাপক জনপ্রিয়। স্কুলের ছাত্র থেকে বাসের হেলপার, ফ্রিল্যান্সার থেকে সাইকেলচালক, অনেকের হাতেই দেখা মেলে।


বিশ্বের বিভিন্ন আলোচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিবর্গের হাতেও শোভা পেয়েছে ঘড়িটি। এই যেমন বারাক ওবামার একটি পুরোনো ছবি ঘুরে বেড়ায় ইন্টারনেটে। তাতে তরুণ ওবামার কবজিতে এই ঘড়ি। অবশ্য তিনি তখনো প্রেসিডেন্ট নন। এমনকি রাজনীতির বড় মঞ্চেও ওঠেননি।

এই ঘড়ির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের কারণে।

সৌদি আরবের এক ধনকুবের পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। ইচ্ছা করলে দামি ঘড়ি পরতে পারতেন। অথচ প্রকাশিত ছবিতে তার হাতে দেখা গেছে এই সস্তা ক্যাসিও। কয়েকটি লেখায় বলা হয়েছে, জনসমক্ষে তার পরা একমাত্র পরিচিত ব্র্যান্ডের জিনিস এটিই।

২০১১ সালে উইকিলিকস গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবিরের একগুচ্ছ গোপন নথি প্রকাশ করে। সেখানে অনেক বন্দির ফাইলে একই মডেলের ঘড়ির উল্লেখ ছিল।

কোনো কোনো ফাইলে লেখা ছিল, বন্দিকে ধরা হয়েছে ক্যাসিও এফ-৯১ডব্লিউসহ। আর এই মডেল আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত বোমা হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।

কেবল রাজনীতি আর যুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই ঘড়িটির গল্প।

র‍্যাপার এমিনেম তার ‘লুজ ইওরসেলফ’ গানের ভিডিওতে এই ঘড়ি পরেছিলেন। বহু সিনেমা আর টিভি সিরিজেও এর দেখা মেলে।

এ কারণেই ঘড়িটিকে অনেকে আন্ডারস্টেটেড স্টাইলে প্রতীক মনে করেন। যারা বেশি কথা বলেন না, বেশি দেখান না, তাদের ঘড়ি।
ad728
ad600