যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া এক মেয়ের বক্সিংয়ে সাফল্যের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘ইন দ্য শ্যাডোজ’। ব্রিটিশ-সোমালি বক্সার রামলা আলির জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ছবিটির প্রশংসা করেছেন চলচ্চিত্র সমালোচক পিটার ব্র্যাডশ।
তার মতে, ছবিটি পরিচিত বক্সিং সিনেমার কাঠামো অনুসরণ করলেও রামলার জীবনের গল্প এতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
২০২১ সালে অলিম্পিক গেমসে সোমালিয়ার হয়ে বক্সিং করা প্রথম ব্যক্তি হন রামলা আলি। ছবিতে তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘টপ বয়’ সিরিজের অভিনেত্রী জেসমিন জবসন। চিত্রনাট্য লিখেছেন উরসুলা রানি সারমা। আর তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যান্থনি ওঙ্কের এটি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র।
ছবিতে রামলার জীবনের সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ছিল নিজের পরিবারের আপত্তি। মুসলিম মেয়ে হিসেবে বক্সিং করাকে তার পরিবার মেনে নিত না। তাই আইনজীবী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি গোপনে প্রশিক্ষণ নিতে হতো তাকে। প্রশিক্ষণে যাওয়ার জন্য মাকে বলতেন, অফিসে কাজের চাপ থাকায় দেরি হচ্ছে।
রামলার পাশে দাঁড়ান তার স্বামী রিচার্ড। ছবিতে এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফিন কোল। পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো জীবন গড়ার ক্ষেত্রে রিচার্ডের সমর্থন ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, রামলার প্রশিক্ষক ক্লিনটনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গার্শউইন ইউস্টেস জুনিয়র। চরিত্রটি নিয়ন্ত্রণপ্রবণ ও নির্যাতনকারী হিসেবে উঠে এসেছে। একবার বেশি ওজনের এক বক্সারের সঙ্গে রামলাকে লড়তে বাধ্য করায় স্প্যারিংয়ের সময় তিনি মস্তিষ্কে আঘাত পান।
প্রচলিত বক্সিং সিনেমার মতো এ ছবিতেও রয়েছে প্রথমবার জিমে যাওয়া, প্রশিক্ষকের কঠোর আচরণ এবং প্রথম প্রতিযোগিতায় নামার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত। লড়াই শেষে বরফভর্তি পাত্রে ব্যথায় জর্জরিত হাত ডুবিয়ে রাখার পরিচিত দৃশ্যও রয়েছে।
তবে ছবিটির বিশেষত্ব শুধু রিংয়ের লড়াইয়ে নয়। রামলার ক্ষেত্রে বক্সিং ছিল নিজের পরিবারের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে গিয়ে পরিচয় ও স্বাধীনতা খুঁজে নেওয়ার লড়াইও। অন্য অনেক নারী বক্সারের গল্পে যে সামাজিক বাধা দেখা যায়, রামলার ক্ষেত্রে তা আরও জটিল। কারণ, নিজের সম্প্রদায়ের মধ্যেই তার এই পেশা গ্রহণের বিরোধিতা ছিল।
ব্র্যাডশের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, ছবিটি সাম্প্রতিক বক্সার প্রিন্স নাসিমকে নিয়ে নির্মিত ‘জায়ান্ট’ চলচ্চিত্রের চেয়েও ভালোভাবে গল্পটি তুলে ধরেছে। তবে বক্সিং সিনেমার ভক্তদের প্রত্যাশিত পরাজয়ের অভিজ্ঞতা এখানে তেমনভাবে দেখা যায় না। রামলার আঘাত পাওয়ার ঘটনাটিও আসে প্রশিক্ষকের অন্যায্য সিদ্ধান্তের কারণে।
ইন দ্য শ্যাডোজে রামলার শৈশবের সোমালিয়ার অভিজ্ঞতা ও গৃহযুদ্ধের সময় পরিবারের ভোগান্তি ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। অতীতের সেই যন্ত্রণা কীভাবে তাকে বক্সিংয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে, সেটিই ছবির আবেগঘন দিক।
সমালোচকের মতে, ছবিটি বক্সিং সিনেমার প্রচলিত ধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে না। তবে রামলার জীবনে বলার মতো একটি সত্যিকারের গল্প রয়েছে। জেসমিন জবসনের অভিনয়ও ছবিটির অন্যতম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
ছবিটি লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ অক্টোবর।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান























