জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অবাধে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের (ওসি) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবসৃষ্ট স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় মোকামতলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থানে থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলীয় পরিচয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথাও জানিয়ে তিনি বলেন, দলের সুনাম ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনে কঠোর হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রার্থীদের ভোট দিলে গ্রামাঞ্চলে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হবে। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
ইতিমধ্যে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ইসি। নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
ইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য যোগ্যতা অর্জনের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ করেছে ইসি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ইসির ডেটাবেজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন, তাদের ভোটার তালিকাভুক্ত করা হবে।
ইসির নির্দেশনায় কর্মকর্তাদের আগামী ৪ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত করে মাঠপর্যায়ে লিংক পাঠানোর কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। পরদিন ৫ নভেম্বর হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
খসড়া তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, তথ্যের ভুলত্রুটি বা অন্য কোনো বিষয়ে দাবি–আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন করা যাবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এসব আবেদন নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৩ নভেম্বর। হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ নভেম্বর।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর জনসাধারণের পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে জনগণকে আহ্বান জানাতে হবে।


















