ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

হাঁটুর ক্ষয় সারাতে নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা দেখালেন গবেষকেরা

শাফিন জামান
শাফিন জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
হাঁটুর ক্ষয় সারাতে নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা দেখালেন গবেষকেরা
গবেষকদের এই আবিষ্কার হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষয়, ব্যথা ও চলাচলের সমস্যায় ভোগা মানুষের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রতীকী ছবি
হাঁটুর কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষয় হয়ে গেলে ব্যথা, জয়েন্টের শক্তভাব ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। ক্ষয়প্রাপ্ত কার্টিলেজ পুনরায় গজানোর সম্ভাবনাময় একটি চিকিৎসাপদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনের গবেষকেরা।

বয়স্ক ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে হাঁটুর কার্টিলেজ পুনর্গঠন করতে পেরেছেন তারা। একই সঙ্গে হাঁটুর আঘাতের পর অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও কমেছে।

গবেষকদের এই আবিষ্কার হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষয়, ব্যথা ও চলাচলের সমস্যায় ভোগা মানুষের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে চিকিৎসাপদ্ধতিটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষণায় ১৫-পিজিডিএইচ নামের একটি প্রোটিনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এই প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। গবেষকদের মতে, শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

এই প্রোটিনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এমন একটি ক্ষুদ্র অণুর ওষুধ বয়স্ক ইঁদুরকে দেওয়া হয়। এরপর তাদের হাঁটুর জয়েন্টের কার্টিলেজের পুরুত্ব বাড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে তৈরি হয় হায়ালিন কার্টিলেজ। জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখা এবং হাড়ের প্রান্তগুলোর মধ্যে ঘর্ষণ কমাতে এই ধরনের কার্টিলেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, কার্টিলেজ পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় নতুন স্টেম সেলের প্রয়োজন হয়নি। বরং আগে থেকেই থাকা কার্টিলেজ কোষগুলোর জিনের কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনই টিস্যু পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার পর অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতেও ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন গবেষকেরা। এ জন্য ইঁদুরগুলোকে চার সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে দুবার ওষুধটি দেওয়া হয়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসা না পাওয়া ইঁদুরগুলোর তুলনায় ওষুধপ্রাপ্ত ইঁদুরের মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কম ছিল।

হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার মতো আঘাতের পর অনেকেরই পরবর্তী সময়ে অস্টিওআর্থ্রাইটিস দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যায় জয়েন্টের কার্টিলেজ ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ব্যথা বাড়ে, হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মেও বাধা তৈরি হয়।

গবেষকদের আশা, নতুন এই চিকিৎসাপদ্ধতি ভবিষ্যতে আঘাতের পর কার্টিলেজের ক্ষয় ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকেরা অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত মানুষের কার্টিলেজের নমুনাতেও ১৫-পিজিডিএইচের কার্যক্রম বাধাগ্রস্তকারী ওষুধটি পরীক্ষা করেছেন। এক সপ্তাহ পর নমুনাগুলোতে সংশ্লিষ্ট প্রোটিনের পরিমাণ কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। একই সঙ্গে কার্টিলেজ ক্ষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যক্রমও কমে আসে। পাশাপাশি কার্টিলেজ পুনর্গঠনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ গবেষক হেলেন ব্লাউয়ের মতে, এই পদ্ধতি বয়সজনিত বা আঘাতের কারণে হওয়া আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আরেক জ্যেষ্ঠ গবেষক নিধি ভুটানি উল্লেখ করেছেন, কার্টিলেজে আগে থেকেই থাকা কোষগুলোর জিনের কার্যক্রম পরিবর্তনের মাধ্যমে টিস্যু পুনর্জন্মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা এবং মানুষের কার্টিলেজের নমুনায় প্রাথমিক সাড়া পাওয়া গেলেও ওষুধটি মানুষের শরীরে কতটা কার্যকর ও নিরাপদ হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গবেষণাগারে মানুষের কার্টিলেজের নমুনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া আর জীবিত মানুষের হাঁটুতে ক্ষয়প্রাপ্ত কার্টিলেজ পুনরায় গজানো এক বিষয় নয়।

তাই মানুষের হাঁটুর কার্টিলেজ পুনর্গঠনে এই ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। আপাতত এটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসাপদ্ধতি নয়। তবে গবেষণার ফল ভবিষ্যতে হাঁটুর কার্টিলেজ ক্ষয় ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত মানুষের জন্য নতুন চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে।

সূত্র : নিউ ইয়র্ক পোস্ট
ad728
ad600