ঢাকা | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজা ইস্যুতে বার্নহামের ক্ষমাপ্রার্থনা, যুক্তরাজ্যের নীতিতে কি বদল আসছে জিমের নতুন ট্রেন্ড ইএমএস ওয়ার্কআউট আসলে কতটা কার্যকর ত্বকের সুবাস নাকি নিঃশ্বাসের টান, মশা কেন আপনাকেই খোঁজে কোচ হাসানের সাথে চুক্তি নবায়ন করতে যাচ্ছে মিশর অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড ৬০০ বৃত্তি, নেই টিউশন ফিও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার আহ্বান ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড বৃত্তি, লাগবে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা খেলাপি ঋণ কমাতে সুদ মওকুফ সুবিধা কারা পাবে নতুন আরও তিন উপজেলা ও এক থানার অনুমোদন সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি দিচ্ছে ইতালির ক্যামেরিনো বিশ্ববিদ্যালয় তুরাগে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ শেষ দেখায় জাপানের কাছে হেরেছিল ব্রাজিল ছয় দিনের প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী সরকার মৌলিক পরিবর্তনের সকল দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : জামায়াত আমির সরকারি হাসপাতালে জন্ম নিলেই সোনার আংটি, ঘোষণা বিজয়ের গাছকে জীবন্ত সত্তার স্বীকৃতি দিল কানাডা, থাকছে আইনি অধিকারও ইরান এখন বিশ্বের বুকে এক শক্তিশালী রাষ্ট্র : পেজেশকিয়ান শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ad728

গাজা ইস্যুতে বার্নহামের ক্ষমাপ্রার্থনা, যুক্তরাজ্যের নীতিতে কি বদল আসছে

রিপোর্টার: The Daily Moon
গাজা ইস্যুতে বার্নহামের ক্ষমাপ্রার্থনা, যুক্তরাজ্যের নীতিতে কি বদল আসছে
ছবির ক্যাপশন: অ্যান্ডি বার্নহাম
যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম গাজায় ইসরায়েলের চালানো যুদ্ধ নিয়ে তার দলের পূর্ববর্তী অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। একই সাথে তিনি ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত মে মাসের নির্বাচনে দলের ভরাডুবি এবং জনপ্রিয়তা হ্রাসের জেরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখন পর্যন্ত বার্নহাম ছাড়া কেউ এই পদের জন্য সামনে না আসায়, এই মাসের শেষ নাগাদ তিনিই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। 

সাবেক এই ম্যানচেস্টার মেয়র গত জুনে মেকারফিল্ড আসনের উপ-নির্বাচনে জিতে পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বার্নহাম বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর দুই বছরের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণে গাজার মানুষের যে ‘অসহনীয় ভোগান্তি’ হয়েছে, তা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে শুরুতেই তার দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে তিনি দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

৫৬ বছর বয়সী এই লেবার নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন জটিল ইস্যু কীভাবে মোকাবেলা করবেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের ভিডিও পোস্ট করেছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে একটি তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মারা গেছেন ১ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এই মানবিক সংকট তুলে করে বার্নহাম বলেন, শিশুসহ নিরপরাধ ফিলিস্তিনিরা প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছেন। গাজায় খুব সামান্যই ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার সীমানা আরও বাড়াছে। ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে।

তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করা, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং ইসরায়েলের অবৈধভাবে সীমানা সম্প্রসারণের তীব্র সমালোচনা করেন।

বার্নহাম বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার স্পষ্টভাবেই একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে অসম্ভব করে তোলার চেষ্টা করছে। তবে একই সাথে বার্নহাম ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা বৃদ্ধির সমালোচনা করে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফিলিস্তিন ইস্যু এখন অনেক বড় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাউন্সিল ফর আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের করা সাম্প্রতিক এক ইউগভ জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের ৫০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন ‘ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে’।

গাজা ইস্যুতে দলটির অবস্থানের কারণে লেবার পার্টি তাদের বামপন্থী ও প্রগতিশীল ভোটারদের একটি বড় অংশ হারিয়েছে। গত মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, লেবার পার্টি ছেড়ে গ্রিন পার্টিতে চলে যাওয়া ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশই দলটির গাজা নীতির কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

লেবার সরকারের সাবেক নীতি উপদেষ্টা প্যাট্রিক ডায়মন্ড বলেন, বার্নহামের এই বক্তব্য মূলত দলছুট হওয়া সেই ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমন করার একটি রাজনৈতিক চেষ্টা।

এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কিয়ার স্টারমার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইসরায়েলের অধিকার রয়েছে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করার। তার এই মন্তব্য তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে লেবার পার্টি প্রথমবারের মতো গাজায় তাৎক্ষণিক মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়।

লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থান কিছুটা বদলালেও গত বছর তারা ফিলিস্তিনপন্থী অ্যাকশন গ্রুপ প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এরপর থেকে সংস্থাটির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে, যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থীদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য এখনও ইসরায়েলের কাছে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্টারমার সরকার প্রায় ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে মাত্র ২৯টি অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করে।

এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে অন্তত ১.৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে। যার বেশিরভাগই গেছে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পর।

অক্সফামের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের কাছে অন্তত ৬৭১ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির লাইসেন্স দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেটের প্রায় ১৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে যুক্তরাজ্য। যদিও সরকার সরাসরি অস্ত্র বিক্রিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তবে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক কর্মসূচির মাধ্যমে ইসরায়েলে এফ-৩৫ জেটের যন্ত্রাংশ সরবরাহের একটি বড় আইনি ফাঁকফোকর বা লুপহোল তারা রেখে দিয়েছে।

অ্যান্ডি বার্নহাম অতীতেও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চেয়ে আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিলেন। এবার তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে যাতে কোনো ব্রিটিশ বোমা বা বুলেট ব্যবহৃত না হতে পারে, সেজন্য অস্ত্র লাইসেন্সের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে কথা বলেছেন।

তবে বিশ্লেষকরা বার্নহামের এই অবস্থানকে সতর্কতার সাথে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক টিম বেল মনে করেন, বার্নহামের এই মন্তব্য হয়তো বাস্তব নীতির চেয়ে বেশি প্রতীকী। কারণ যুক্তরাজ্যকে একদিকে যেমন ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রতি তাদের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে চরম ইসরায়েলপন্থী মার্কিন প্রশাসনের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের ভিজিটিং ফেলো তাহানি মুস্তফা বলেন, “বার্নহামের এই দুঃখ প্রকাশ বা মনোভাব অবশ্যই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে নির্বাচনের আগে এগুলো কেবলই রাজনৈতিক মুখের কথা বা চাতুরি কি না, তা দেখার জন্য আমাদের নীতিগত পরিবর্তন আসা পর্যন্ত সতর্কভাবে অপেক্ষা করতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বার্নহাম এখনও গাজার যুদ্ধকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলতে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বাধ্যবাধকতাকে কিছুটা হালকা করে দেয়।
ad728
মন্তব্য করুন
ad300