সঙ্গীর সাথে নিজের পছন্দের তারকা বা সেলিব্রিটি ক্রাশ নিয়ে খুনসুটি করা খুবই সাধারণ বিষয়। কিন্তু কখনো যদি সেই তারকার দেখা মেলে, তবে তার সাথে রাত কাটানোর মৌখিক অনুমতি বা ‘হল পাস’ দেওয়াটা কি শুধুই নির্ভেজাল মজা, নাকি সাজানো সংসার ভাঙার এক চোরাবালি?
এই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক রম্য চলচ্চিত্র। বিনোদন দুনিয়ার প্রতি মানুষের অন্ধ মোহ আর অবদমিত অবাস্তব ফ্যান্টাসিকে বেশ হাস্যরসের ছলে ফুটিয়ে তুলেছে এই সিনেমা।
পরিচালক ডেভিড ওয়েন এবং সহলেখক কেন মারিনোর গেইল ডট্রি অ্যান্ড দ্য সেলিব্রিটি সেক্স পাস সিনেমাটি গত জানুয়ারিতে সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে দারুণ প্রশংসিত হয়।
পরিচালক জানান, দম্পতিরা সাধারণত বিষয়টি নিয়ে কেবল মজাই করেন, বাস্তবে কিছু করেন না। তবে সিনেমাটি তৈরি হয়েছে এই ভাবনায়, যদি কেউ সত্যি এমনটা করে বসে, তবে কী হবে? পর্দায় রসাত্মকভাবে গল্পটি এলেও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা সাবধান করেছেন, বাস্তব জীবনে এমন কল্পনার পরিণতি মোটেও হাসির বিষয় নয়।
গেইল ডট্রি অ্যান্ড দ্য সেলিব্রিটি সেক্স পাস সিনেমাটির মূল উপজীব্য হলো দম্পতিদের মধ্যকার ‘সেলিব্রিটি হল পাস’ বা পছন্দের তারকার সাথে রাত কাটানোর মৌখিক অনুমতি।
মজার ছলে নেওয়া এই ফ্যান্টাসি যখন সত্যি হয়ে ধরা দেয়, তখন এক সুখী যুগলের সম্পর্কে যে মরণকামড় পড়ে, তাই তুলে ধরা হয়েছে এখানে। পপ কালচারে বহুল চর্চিত এই বিষয়টি বাস্তব জীবনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক খেলা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কানসাসের সাধারণ এক নারী গেইল ডট্রি। প্রেমিক টমের সাথে বিয়ের ঠিক আগে সে আবিষ্কার করে, টম সত্যি সত্যিই তার ‘হল পাস’ তারকা জেনিফার অ্যানিস্টনের সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে।
টম একে স্রেফ আগে থেকে পাওয়া ‘অনুমতি’ বলে পার পেতে চাইলেও গেইলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। সে চিৎকার করে বলে, ‘আমি ভেবেছিলাম ওটা একটা সাধারণ মজার খেলা ছিল! ফ্রেন্ডস সিরিজের ‘র্যাচেল’-এর সাথে বিছানায় যাওয়ার লাইসেন্স নয়!’
এরপর গেইল নিজের প্রতিশোধ নিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমায় তার নিজের ক্রাশ অভিনেতা জন হ্যামের সন্ধানে।
তারকাদের সাথে সম্পর্কের এই অদ্ভুত ছাড়পত্রের ধারণাটি ১৯৯৬ সালে বিখ্যাত টিভি সিরিজ ফ্রেন্ডসের একটি পর্বের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়। ২০১১ সালে ওয়েন উইলসন অভিনীত ‘হল পাস’ সিনেমাতেও এই ফ্যান্টাসি দেখা গিয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের ডেইলি স্টার পত্রিকার এক জরিপে দেখা গেছে, ২৫ শতাংশ দম্পতি নিজেদের মধ্যে এমন অলিখিত ‘হল পাস’ চুক্তি রাখেন।
জরিপ অনুযায়ী পুরুষদের পছন্দের শীর্ষে মার্গো রবি ও ব্লেক লাইভলি এবং নারীদের পছন্দে ব্র্যাড পিট ও জর্জ ক্লুনি এগিয়ে আছেন। জন হ্যাম অবশ্য এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন না।
গটম্যান ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক কেরি কোল এই ধারণাকে একটি অত্যন্ত ‘বাজে আইডিয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, এক দম্পতি বাস্তব জীবনে এমন এক ছাড় দেওয়ার পর তাদের সম্পর্কে তীব্র মানসিক আঘাত ও বিশ্বাসের সংকট তৈরি হয়েছিল। মুখে রাজি হলেও বাস্তবে এটি কেউই মেনে নিতে পারেন না।
সাইকোলজিস্ট আলেকজান্দ্রা সলোমন মনে করেন, সম্পর্কে যদি পর্যাপ্ত মানসিক ও আবেগীয় নিরাপত্তা থাকে, তবে এই ধরনের ফ্যান্টাসি সম্পর্ককে আরও রোমাঞ্চকর করতে পারে। সাধারণ মানুষের চেয়ে সেলিব্রিটিদের নিয়ে এমন কল্পনা করাটা নিরাপদ, কারণ বাস্তবে তাদের পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।
সূত্র : সিএনএন