ব্যবসায় নতুন গতি ফেরাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিশ্বের জনপ্রিয় দুই ব্র্যান্ড স্টারবাকস ও ম্যাকডোনাল্ডস। স্টারবাকস উত্তর আমেরিকায় প্রায় ২৫০টি শাখা বন্ধ করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে ম্যাকডোনাল্ডস ব্যবসা শক্তিশালী করতে আগামী ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
একদিকে কম কার্যকর শাখা বাদ দিচ্ছে স্টারবাকস। অন্যদিকে বিপুল অর্থ ঢেলে রেস্তোরাঁ সংস্কার, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নতুন খাবার আনার পরিকল্পনা করছে ম্যাকডোনাল্ডস। বদলে যাওয়া বাজারে গ্রাহকদের ধরে রাখাই দুই প্রতিষ্ঠানের বড় লক্ষ্য।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর আমেরিকায় প্রায় ২৫০টি স্টোর বন্ধ করবে স্টারবাকস। অঞ্চলটিতে প্রতিষ্ঠানটির মোট শাখা প্রায় ১৮ হাজার। অর্থাৎ নতুন করে বন্ধ হতে যাওয়া শাখার সংখ্যা মোট শাখার প্রায় ১ শতাংশ।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব শাখা গ্রাহক ও কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা দিতে পারছে না। কিছু শাখা আবার আর্থিকভাবেও টেকসই নয়।
স্টারবাকসের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান নিকল এক বছর আগেও প্রায় একই সংখ্যক শাখা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সময় করপোরেট পর্যায়ে কর্মী ছাঁটাইও করা হয়। সব মিলিয়ে সেটি ছিল ১০০ কোটি ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ।
ব্যবসায় আবার প্রবৃদ্ধি ফেরাতে কয়েক বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন নিকল। উত্তর আমেরিকায় ক্যাফে সংস্কার, সেবার মান উন্নত করা এবং মেনু সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শাখাগুলো বন্ধ করতে স্টারবাকসের প্রায় ৩০ কোটি ডলার খরচ হবে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি নথিতে জানানো হয়েছে এসব তথ্য।
এর মধ্যে প্রায় ২০ কোটি ডলার খরচ হবে আগেভাগে ইজারা বাতিল এবং কর্মীদের বিচ্ছেদ সুবিধা দিতে।
কোন কোন শাখা বন্ধ হবে, তার তালিকা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহের শেষ থেকেই সংশ্লিষ্ট ক্যাফেগুলোতে বন্ধের নোটিশ দেখা যেতে পারে। স্টারবাকসের অ্যাপেও বন্ধের তথ্য জানানো হবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাইক গ্রামস কর্মীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকায় দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির বড় সুযোগ নিয়ে তারা এখনও আশাবাদী। নতুন কফিশপ খোলার জন্যও প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবে চলতি অর্থবছরে বিশ্বজুড়ে স্টারবাকসের নতুন শাখা খোলার সংখ্যাও কমছে। নথিতে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৪০টি নতুন শাখা খোলার পূর্বাভাস রয়েছে। এর আগে ৬০০ থেকে ৬৫০টি নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা জানানো হয়েছিল।
তারপরও স্টারবাকসের ব্যবসায় কিছুটা গতি ফিরেছে। প্রায় এক বছর আগে বিক্রি আবার বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের একই স্টোরের বিক্রি বেড়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
জুলাইয়ে আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান নিকল জানিয়েছিলেন, ওই প্রান্তিকেই ব্যবসার গতি স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে।
অন্যদিকে ফাস্টফুডের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ম্যাকডোনাল্ডস।
গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। এর মধ্যে থাকবে রেস্তোরাঁ সংস্কার, প্রায় ২০ লাখ কর্মীকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নতুন মেনু চালু করা।
বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পছন্দ করেন এমন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতেও নতুন খাবার আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী সাড়ে তিন বছরেই প্রায় ৫০০ কোটি ডলার খরচ করা হবে। এই অর্থের একটি অংশ রেস্তোরাঁগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে ভাড়া পরিশোধে সহায়তাও করা হবে।
গ্রাহকদের আবার ফিরিয়ে আনা এবং বাজারের অংশীদারত্ব বাড়ানোই ম্যাকডোনাল্ডসের এই বহুবছরের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
গত মাসে ম্যাকডোনাল্ডস জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের পর সবচেয়ে ধীর প্রান্তিক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অতিরিক্ত প্রচারণা, দুর্বল গ্রাহকসেবা এবং বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় প্রচারণা প্রত্যাশিত গ্রাহক টানতে না পারাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
নতুন পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেক্সট’। এর লক্ষ্য হলো আরও বেশি গ্রাহকের কাছে আরও ঘন ঘন ম্যাকডোনাল্ডসকে প্রথম পছন্দে পরিণত করা। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলোকে আরও শক্তিশালী ও পরিচালনা সহজ করাও এই পরিকল্পনার অংশ।
ম্যাকডোনাল্ডসের প্রধান নির্বাহী ক্রিস কেম্পচিনস্কি জানিয়েছেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আরও বেশি গ্রাহকের প্রথম পছন্দ হতে চায়। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলোকে আরও শক্তিশালী ও পরিচালনা সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।























