ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

লুলা কি লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থার ঢেউ ঠেকাতে পারবেন?

ফাইরুজ তাসনিম
ফাইরুজ তাসনিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
লুলা কি লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থার ঢেউ ঠেকাতে পারবেন?
লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ছবি : সংগৃহীত
লাতিন আমেরিকাজুড়ে ডানপন্থার উত্থান এখন রাজনীতির বড় আলোচনার বিষয়। একের পর এক দেশে ডানপন্থী শক্তি নির্বাচনে জয় পাচ্ছে। এমন সময়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আবারও সেই ঢেউয়ের মুখোমুখি।

দেশটিতে রবিবার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৮০ বছর বয়সী লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি কারাগারে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ডানপন্থী লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি।

প্রশ্ন উঠেছে, লুলা কি ব্রাজিলকে লাতিন আমেরিকার ডানদিকে সরে যাওয়ার প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পারবেন? নাকি ব্রাজিলও যোগ দেবে সেই স্রোতে?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কলম্বিয়া, চিলি ও আর্জেন্টিনাসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ডানপন্থী শক্তির নির্বাচনী সাফল্য দেখা গেছে। সেই প্রবণতা এখন পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক চিত্র বদলে দিচ্ছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি। তার প্রশাসন ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে একটি নতুন কাঠামোর কথা বলছে। এটি ১৯ শতকের মনরো ডকট্রিনের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

লুলা তার নির্বাচনী প্রচারে ফ্লাভিও বলসোনারোকে শুধু একজন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখাতে চাইছেন না। তার ভাষ্য, ফ্লাভিও লাতিন আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বৃহত্তর ডানপন্থী আন্দোলনেরই একটি প্রতিচ্ছবি।

লুলা ব্রাজিলের রাজনীতির দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিটির প্রার্থী হিসেবে তিনি এরই মধ্যে তিনবার প্রেসিডেন্ট হয়েছেন।

২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর ২০২৩ সালে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরেন তিনি।

তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম দিক হলো ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার চেষ্টা। ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত কয়েক দশক মার্কিন সমর্থিত সামরিক একনায়কতন্ত্রের অধীনে থাকার পর দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

ক্ষমতায় ফিরে লুলা বৈষম্য কমাতে একাধিক সামাজিক কর্মসূচি চালু করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে লাখো মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও লুলা উন্নয়নশীল ও অ-পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছেন।

লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক গবেষণার সহকারী অধ্যাপক এবং লুলাকে নিয়ে একটি বইয়ের লেখক আন্দ্রে পাগলিয়ারিনি বলেছেন, সামরিক শাসনের অবসানের পর ব্রাজিলের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া ও সুসংহত করার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন লুলা।

ফ্লাভিও বলসোনারো তার বাবা জাইর বলসোনারোর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে ব্রাজিলের ডানপন্থার প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে লুলার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীও তিনি।

অপরাধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্লাভিও। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা বলেছেন তিনি। ব্রাজিলের কয়েকটি অপরাধী গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ফ্লাভিও। তার একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করবেন।

বাবা জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকেও রাজনৈতিক নিপীড়নের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন ফ্লাভিও। তিনি তার বাবার বিচারকে অবৈধ বলে দাবি করেছেন এবং তাঁর মুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরে এক নির্বাচনী সমাবেশে ফ্লাভিও বলেছিলেন, তিনি চান পরের বছর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সিঁড়িতে তার বাবার সঙ্গে হাঁটতে। তার বাবাই যেন তার বুকে প্রেসিডেন্টের উত্তরীয় পরিয়ে দেন—এমন আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

পাগলিয়ারিনির মতে, বলসোনারো পরিবারের রাজনৈতিক বক্তব্য হলো—সামরিক শাসনের পর ব্রাজিলের গণতন্ত্র যে প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে, সেগুলো দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তাই বর্তমান ব্যবস্থা থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার।

তার ভাষ্য, এই নির্বাচনের গুরুত্ব এত বেশি হওয়ার কারণ হলো দুই প্রার্থী ব্রাজিলের সাম্প্রতিক ইতিহাসকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।

নির্বাচনের আগের শনিবার প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপে লুলাকে সামান্য এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কোনো জরিপেই ব্যবধান বড় নয়। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন গড়াতে পারে দ্বিতীয় দফায়।

ব্রাজিলের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক ও নির্বাচনী জরিপ প্রতিষ্ঠান সিএনটি/এমডিএর জরিপে লুলার পক্ষে সমর্থন পাওয়া গেছে ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ফ্লাভিওর পক্ষে ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ।

৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৭ জনের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এতে ভুলের সম্ভাবনা ২ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ডেটাফোলহার জরিপে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দফায় লুলা পেতে পারেন ৪৭ শতাংশ ভোট। ফ্লাভিও পেতে পারেন ৪৬ শতাংশ। ২ থেকে ৩ অক্টোবর ৪ হাজার ৬ জনের ওপর চালানো এই জরিপের ভুলের সম্ভাবনা ২ শতাংশ পয়েন্ট।

জরিপগুলোতে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতি দমন, অপরাধ ও মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ফ্লাভিওকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য, পররাষ্ট্রনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় লুলার প্রতি বেশি সমর্থন রয়েছে।

কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পেলে—অবৈধ ও ফাঁকা ব্যালট বাদ দিয়ে—শীর্ষ দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফায় যাবেন। সেই ভোট হওয়ার কথা ২৫ অক্টোবর। দ্বিতীয় দফায় যে প্রার্থী বেশি বৈধ ভোট পাবেন, তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।

২০২৩ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর বিশ্বের বামপন্থী রাজনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হন লুলা। উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে ‘পেপে’ মুজিকা থেকে দার্শনিক নোয়াম চমস্কি—বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব তার সঙ্গে দেখা করেছেন।

লুলা নিজেও মনে করেন, বিশ্বজুড়ে ডানপন্থী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে বড় একটি লড়াইয়ের সম্মুখসারিতে রয়েছে ব্রাজিল।

২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ব্রাসিলিয়ায় বলসোনারোর সমর্থকদের সরকারি ভবনে হামলা সেই ধারণাকে আরও জোরালো করে। লুলা ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিন পরই ওই হামলা হয়েছিল।

তবে দেশের ভেতরে লুলার সরকারও চাপে রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা রাজনৈতিক মেরুকরণও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্রাজিল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি সহজ নয়। লুলা ব্রিকস জোটে ব্রাজিলের নেতৃত্বের ভূমিকা পুনরুজ্জীবিত করেছেন। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছেন। ইউরোপের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার সাম্প্রতিক ডানপন্থী বিজয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক তাঁকে পশ্চিম গোলার্ধে ক্রমেই কিছুটা বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে।

ব্রাজিলের কিছু কূটনীতিকের মতে, লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সরকারগুলোর বিস্তারের পথে ব্রাজিলই এখন বড় বাধা হিসেবে ওয়াশিংটনের কাছে বিবেচিত হচ্ছে।

চিলি, কলম্বিয়া, হন্ডুরাস ও পেরুতে সাম্প্রতিক ডানপন্থী বিজয়ের পর এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বামঘেঁষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের অ্যালেক্স মেইন রয়টার্সকে বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রগতিশীলদের কাছে লুলা এখন ‘আশার আলো’।

প্রতিবেশী আর্জেন্টিনাতেও লুলার সম্ভাব্য পুনর্নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশটির উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের বিরোধীরা মনে করছেন, লুলার জয় আগামী বছরের নির্বাচনের আগে তাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হতে পারে।

আর্জেন্টিনার কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়েরোর ভাষ্য, লুলা জয়ী হলে এই অঞ্চলে তৈরি হওয়া ডানপন্থী প্রবাহের বিপরীতে একটি পাল্টা স্রোত তৈরি হবে। এতে বোঝা যাবে, এই ডানপন্থী বাতাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও রয়েছে।

ইউরোপের উদারপন্থী সরকারগুলোও নির্বাচনটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ব্রাজিলের প্রগতিশীল জলবায়ু উদ্যোগে এসব দেশ সমর্থন দিয়ে এসেছে।

এক ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সতর্ক করেছেন, মানবাধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হলে কিংবা আমাজন বন বড় পরিসরে ধ্বংস হলে ব্রাজিলের সঙ্গে কাজ করা ইউরোপের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

এই নির্বাচনে দুর্নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প এরই মধ্যে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন, তার পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনে জিততে না পারলে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলায় যুক্ত ব্রাজিলের বিচার বিভাগের সদস্যদের ওপরও ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। তিনি ওই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘উইচ-হান্ট’ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের চাপ তৈরিতে ব্রাজিলের ওপর বড় ধরনের শুল্কও আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ব্রাজিল সরকার দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি। ব্রাজিলের ভাষ্য, তাঁরা দেশটির নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার উদ্দেশ্যে সেখানে যেতে চেয়েছিলেন।

ব্রাজিল সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা ন্যায্যতা দিতে ট্রাম্প নিজেও ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির মিথ্যা দাবি করেছিলেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির ৩১ জন কংগ্রেস সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের ‘স্পষ্ট প্রচেষ্টা’ এবং নির্বাচনকে সম্ভাব্যভাবে দুর্বল করার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফ্রান্স ও জার্মানির একটি প্রতিনিধিদলকেও সম্ভাব্য বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে অবহিত করেন। সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নামও উঠে আসে।

ব্রাজিলের ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব রিও ডি জেনেইরোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক ফার্নান্দো ব্রানকোলির মতে, আধুনিক ব্রাজিলের ইতিহাসে এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের গতিপথ বদলানোর চেষ্টা করছে—এমন স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শুল্কের দিক থেকে ব্রাজিল এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। শুল্কের হার ৫০ শতাংশেরও বেশি। আর ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, বাণিজ্যিক কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণেই এসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

লুলা অবশ্য তার অবস্থান থেকে সরেননি। নির্বাচনী প্রচারে তিনি বারবার বলেছেন, যতদিন তিনি বেঁচে আছেন, ততদিন ব্রাজিলে ডানপন্থীরা আবার ক্ষমতায় ফিরবে না।

কিন্তু এই নির্বাচনের প্রভাব শুধু ব্রাজিলের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অধ্যাপক ব্রানকোলির মতে, লুলা বা বলসোনারো—যেই জিতুন, পুরো মহাদেশের রাজনৈতিক গতিপথে তার প্রভাব পড়বে। তার ভাষায়, ব্রাজিলই এখন লাতিন আমেরিকার শেষ বড় প্রগতিশীল বা বামপন্থী দুর্গ।

ফলে রোববারের ভোট শুধু একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই নয়। এটি হয়ে উঠেছে লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় এক পরীক্ষাও।

লুলা জয়ী হলে ডানপন্থার ঢেউয়ের মধ্যে একটি পাল্টা স্রোত তৈরি হতে পারে। আর ফ্লাভিও বলসোনারো জিতলে ব্রাজিলও যুক্ত হতে পারে অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ডানপন্থী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে।

সূত্র : আলজাজিরা
ad728
ad600