ঢাকা | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বজন হারানো ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ ‘ভেঙে পড়েছেন’ এমি, ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবনা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তান মনে করে শিক্ষা দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী ক্ষতিকর কনটেন্ট না দেখানোর আইন কতটা মানছে ইউটিউব, কারা ঝুঁকিতে স্বর্ণের দাম কমছে কেন, আরও কত কমতে পারে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা, উত্তরে বাড়ছে তিস্তার পানি সঙ্গীকে দেওয়া সেলিব্রিটি ‘সেক্স পাস’ কি আদৌ ভালো ধারণা বন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি, আছে স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ মৃত্যুর পরও মানুষ আপনাকে কেন মনে রাখবে খামেনি হত্যার প্রতিশোধের তালিকায় শীর্ষ ১৩ নেতা, প্রথমেই ট্রাম্প ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৫ দেখায় ৩ হার, আর্জেন্টিনার লড়াই কতটা কঠিন তীব্র গরমে নারীরা কেন পুরুষের চেয়ে বেশি ভোগেন চীনের জিয়াংসি প্রদেশের সরকারি বৃত্তি, বয়সসীমা ২৫ বছর ঘুমে ঝাঁকুনি অনুভব হয় কেন, হিপনিক জার্ক কি বড় কোনো রোগ বৃষ্টির দিনের জনপ্রিয় গান কক্সবাজারে বানের পানির স্রোতে ভেসে গেছে দুই শিশু গাজা ইস্যুতে বার্নহামের ক্ষমাপ্রার্থনা, যুক্তরাজ্যের নীতিতে কি বদল আসছে জিমের নতুন ট্রেন্ড ইএমএস ওয়ার্কআউট আসলে কতটা কার্যকর ত্বকের সুবাস নাকি নিঃশ্বাসের টান, মশা কেন আপনাকেই খোঁজে
ad728

দেশের মধ্যাঞ্চল বজ্রপাতের ‘হটস্পট’, বছরে গড় মৃত্যু ৩৫০ জনের

The Daily Moon
রিপোর্টার: The Daily Moon
দেশের মধ্যাঞ্চল বজ্রপাতের ‘হটস্পট’, বছরে গড় মৃত্যু ৩৫০ জনের
ছবির ক্যাপশন: দেশের মধ্যাঞ্চল বজ্রপাতের ‘হটস্পট’, বছরে গড় মৃত্যু ৩৫০ জনের

দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঠে-ঘাটে-ছাদে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা বেড়েছে জুনের প্রথম সপ্তাহে। বজ্রঝড়ের স্বল্প সময়ে কৃষক, জেলে, তরুণ ও কিশোরের মৃত্যু থামছে না। এতে প্রতি বছর গড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতের বিষয়ে সচেতন হওয়ার কথা বলছে সংশ্লিষ্টরা।

ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, টাঙ্গাইল, রংপুর ও মুন্সীগঞ্জে রোববার বজ্রপাতে অন্তত ১৭ জন মারা গেছে। ‘নেত্রকোনা, নরসিংদী, কুমিল্লা’ মিলে দেশের মধ্যাঞ্চলকে ‘বজ্রপাতের হটস্পট’ বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবদুল মান্নান বলেন, দেশে বজ্রপাতের ‘হটস্পট’ হচ্ছে মধ্যাঞ্চল। মার্চ-এপ্রিল-মে মাস বজ্রপাতের জন্য অনকূল পরিবেশ বিরাজের প্রবণতা থাকলেও মৌসুমগত পরিবর্তনের কারণে মে-জুলাইয়েও তা বিস্তৃত হতে পারে।

চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, টাঙ্গাইল, রংপুর ও মুন্সীগঞ্জে রোববার বজ্রপাতে যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে কেউ গরু আনতে গিয়েছিলেন মাঠে, কেউ বাড়ির পাশে মাঠে ধান কাটছিলেন, কেউ প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টিতে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাচ্ছিলেন, কেউ বাড়ি উঠানে ও স্কুলের মাঠে খেলছিলেন, পাট ক্ষেতে কাজ করছিলেন।

বজ্রপাতের ‘হটস্পট’

ড. আবদুল মান্নান বলেন, তথ্য পর্যালোচনা করে আমরা পেয়েছি, নেত্রকোনা, নরসিংদী, কুমিল্লা- দেশের এ মধ্যাঞ্চল বজ্রপাতের হটস্পট। বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশের মধ্যে এ অঞ্চলে সাম্প্রতি সময়ে বেশি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। বজ্রপাতের এ দুর্যোগে প্রাণহানি ও আহত হওয়া ঠেকাতে মানুষের সচেতনতা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

বজ্রপাত ঘনঘটার তীব্রতা

মান্নান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বজ্রপাতের তীব্রতা বেড়েছে। ‘ইভেন্টের পার্টিকুলার ডে বা শর্ট পিরিয়ডে’ বেশি বজ্রপাত বৈশিষ্ট বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিককালে বজ্রপাতের এমন ঘটনাকে ‘শর্ট লিফট লাইটেনিং ফেনোমেনা’ বলা হয়- এর ঘনঘটা বাড়ছে।

পড়ুন: বদলে যাচ্ছে বর্ষাকাল

রোববারের বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রসঙ্গ টেনে মান্নান বলেন, "রোববারের বজ্রপাতের পর কয়েকদফা বৃষ্টিও হয়েছে, রাতেও বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার আকাশও পরিষ্কার হয়ে গেছে। পরপর বজ্রপাত ঘটছে; মানুষেরও কিছু করার থাকে না।” সচেতন না হলে আবহাওয়াগত এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।

হাওরে ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক জানান, বজ্রপাত নিরোধক ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার' স্থাপনা করার পাশাপাশি ‘আর্লিওয়ার্নিংয়ের' সর্বশেষ প্রযুক্তি কাজে লাগাতে প্রচেষ্টা রয়েছে।

তিনি জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনে ৭-৮টি জায়গায় বজ্রপাত ডিটেকটিভ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন সময়ে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত হচ্ছে।

খোলা জায়গায় উঁচু গাছ থাকলে তাতে বজ্রপাতবাহিত হয়ে তা ভূমি স্পর্শ করবে৷ বজ্রপাতে ক্ষয়কত্ষতি কমাতে প্রচুর পরিমাণে তালগাছ ও নারকেল গাছ রোপণ করার উদ্যোগ রয়েছে সরকারের।

বজ্রপাত কেন, সচেতনতা

ব্যাংককের রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. মোহন কুমার দাশ জানান, বজ্রপাতের বিষয়ে আগাম পূর্বাভাসের অভাব ও মানুষের অসচেতনতার কারণে হতাহতের ঘটনা বেড়েছে। বজ্রঝড়ের সময় সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট বজ্রপাতের ভয় থাকে। কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত শুরুর অন্তত আধ ঘণ্টা সময় সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বজ্রপাতে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২৫০ থেকে ৩৫০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৬ সালে মে মাসে এক দিনে ৩৩ জনের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। পাঁচ বছর আগে বজ্রপাতকে দুর্যোগ ঘোষণা করে সরকার।

বজ্রপাত নিয়ে জনসচেতনা তৈরিতে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডার অ্যাওয়ারনেস ফোরামের গবেষণা সেলের নির্বাহী প্রধান আব্দুল আলীম বলেন, গণমাধ্যমের তথ্য পযালোচনা করে আমরা দেখেছি- লকডাউনের মধ্যে ৬ জুন একদিনেই অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। বরাবরের মতো কৃষকের সংখ্যাই বেশি, তারপর জেলে এবং ছাদে-মাঠে খেলারত শিশু। ঘরের মধ্যে থাকার কথা থাকলেও অসচেতনতার কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

ad728
মন্তব্য করুন
ad600