ঢাকা | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বজন হারানো ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও গাজায় সেরা শিক্ষার্থী সাবা রাবাহ ‘ভেঙে পড়েছেন’ এমি, ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবনা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের রাজধানীর ১২০ মোড়ে বসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল শিক্ষার্থীদের নিজেদের সন্তান মনে করে শিক্ষা দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী ক্ষতিকর কনটেন্ট না দেখানোর আইন কতটা মানছে ইউটিউব, কারা ঝুঁকিতে স্বর্ণের দাম কমছে কেন, আরও কত কমতে পারে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা, উত্তরে বাড়ছে তিস্তার পানি সঙ্গীকে দেওয়া সেলিব্রিটি ‘সেক্স পাস’ কি আদৌ ভালো ধারণা বন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি, আছে স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ মৃত্যুর পরও মানুষ আপনাকে কেন মনে রাখবে খামেনি হত্যার প্রতিশোধের তালিকায় শীর্ষ ১৩ নেতা, প্রথমেই ট্রাম্প ইংল্যান্ডের সঙ্গে ৫ দেখায় ৩ হার, আর্জেন্টিনার লড়াই কতটা কঠিন তীব্র গরমে নারীরা কেন পুরুষের চেয়ে বেশি ভোগেন চীনের জিয়াংসি প্রদেশের সরকারি বৃত্তি, বয়সসীমা ২৫ বছর ঘুমে ঝাঁকুনি অনুভব হয় কেন, হিপনিক জার্ক কি বড় কোনো রোগ বৃষ্টির দিনের জনপ্রিয় গান কক্সবাজারে বানের পানির স্রোতে ভেসে গেছে দুই শিশু গাজা ইস্যুতে বার্নহামের ক্ষমাপ্রার্থনা, যুক্তরাজ্যের নীতিতে কি বদল আসছে জিমের নতুন ট্রেন্ড ইএমএস ওয়ার্কআউট আসলে কতটা কার্যকর ত্বকের সুবাস নাকি নিঃশ্বাসের টান, মশা কেন আপনাকেই খোঁজে
ad728

মারা গেলেন ‘৩০২ কেজি’ ওজনের মাখন মিয়া

The Daily Moon
রিপোর্টার: The Daily Moon
মারা গেলেন ‘৩০২ কেজি’ ওজনের  মাখন মিয়া
ছবির ক্যাপশন: মারা গেলেন ‘৩০২ কেজি’ ওজনের মাখন মিয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দক্ষিণ মৌড়াইলের বাসিন্দা ৩০২ কেজি ওজনের মাখন মিয়া। অস্বাভাবিক ওজন নিয়ে অবশেষে জীবনযুদ্ধে হেরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৪০) বছর।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বাবার নাম মিলন মিয়া।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মাখন মিয়ার ওজন প্রথমে স্বাভাবিক থাকলেও পরে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মৃত্যুকালে তার ওজন ছিল ৩০২ কেজি। অস্বাভাবিক এই ওজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটিয়ে ছিল মাখন। অবশেষে ওজনের কারণে জীবনযুদ্ধে হেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

মাখনের পিতা মিলন মিয়া জানান, গত কয়েক দিন যাবৎ মাখন শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ ভুগছিলেন। গত ২০ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিকই ছিল মাখন। তারপর হঠাৎ তার শারীরিক গঠন বাড়তে থাকে। সে সঙ্গে তার শরীরের ওজনও অস্বাভাবিক বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তার ওজন ৩০২ কেজিতে গিয়ে দাঁড়ায়। ছেলেকে সুস্থ করার জন্যে চিকিৎসাও করেছেন একাধিকবার, কিন্তু অস্বাভাবিক ওজনের কারণে ব্যাহত হচ্ছিল চিকিৎসা। তার চিকিৎসাব্যয় বহন করতে গিয়ে এখন নিঃস্ব তার পরিবার। দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে আর্থিক কষ্টে বেঁচে থাকাই ছিল কষ্টকর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন মৃত্যু নিশ্চিত করে জানান, সোমবার রাতে মাখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। তার ওজনের কারণে হাসপাতালের ভেতরে জরুরি বিভাগে ঢোকানো সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের গেটেই তাকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, মাখনের শ্বাসকষ্ট সমস্যা ছিল। তার বুকে ব্যথা ছিল। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

২০১৭ সালে গণমাধ্যকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাখন মিয়া তার দুঃসহ জীবনের দুঃখগাথা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘যহন প্রেসারটা একটু লো অইয়া যায় তখন খালি খিদা লাগে। সামনে যা পাই তাই খাইতাম ইচ্ছা করে। খাওন শেষ অয় কিন্তু আমার পেডে খিদা থাহে। অত খাওন আমি পামু কই। পেডে খিদা থাকলে আবার শরীর খারাপ লাগে।’

কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছিলেন মাখন মিয়া। চোখ মুছতে মুছতে বাঁচার আকুতি জানালেন বারবার। নিজের চিকিৎসা ও খাবার খরচ জোগানোর জন্য সবার সহযোগিতাও কামনা করছিলেন।

অবশেষে সব কিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেলেন মাখন মিয়া।

ad728
মন্তব্য করুন
ad600