ঢাকা | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদে অটো পাসের সমালোচনা রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ না হলে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, প্রশ্ন আনু মুহাম্মদের মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যাহারের আশা আইন উপদেষ্টার প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন্ড শেষ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ ‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার ৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের উপাচার্য এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কলেজ কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে
ad728

যুক্তরাষ্ট্রও বুঝে গেছে, এই যুদ্ধে তারা জিতবে না

রিপোর্টার: The Daily Moon
যুক্তরাষ্ট্রও বুঝে গেছে, এই যুদ্ধে তারা জিতবে না
ছবির ক্যাপশন: যুক্তরাষ্ট্রও বুঝে গেছে, এই যুদ্ধে তারা জিতবে না

গাজী মিজানুর রহমান: শুনছি ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার টুইনটাওয়ারে হামলার ২০ বছর পূর্তিতে আমেরিকা তাদের সব সৈন্যকে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেবে। এটা পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৫৫-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে আফগানিস্তানে। যুক্তরাষ্ট্রও ইতোমধ্যে বুঝে গেছে যে, এই যুদ্ধে তারা কখনো জিততে পারবে না। যেমনটা পারেনি আরেক পরাশক্তি রাশিয়া।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে তালেবান শাসকদের ওপর "Operation Enduring Freedom" নাম দিয়ে হামলা চালানোর সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বলেছিলেন, বিশ্বের প্রতিটি সন্ত্রাসী গ্রুপকে বের করে তাদের থামানো ও পরাজিত না করা পর্যন্ত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বন্ধ হবে না।

আমি ব্যক্তিগতভাবে তালেবান কিংবা আল-কায়েদা কারোর মতাদর্শকে সমর্থন করি না। কিন্তু তারপরও বলতেই হয়- ২০০১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগানিস্তানে হামলা চালানোর আগে বিশ্ব অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল। যতটুকু অবশিষ্ট ছিল ২০০৩ সালের ২০ মার্চ মাসে "ইরাকের কাছে প্রাণঘাতী পারমাণবিক অস্ত্র আছে"- এমন অভিযোগ তুলে "Operation Iraqi Freedom" নাম দিয়ে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে হামলা চালানোর পর বিশ্ব পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং ইসলামের অনুসারীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়; যা এখনো চলমান।

তবে, ইরাকের স্বাধীন মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে বলেনি "আমাদের স্বাধীনতা দাও"। তারপরও "Operation Iraqi Freedom" নাম দিয়ে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের ওপর অবৈধ হামলা চালানো হয়। যদিও, ইরাকের পাশ্ববর্তী দেশ ফিলিস্তিন স্বাধীনতা চাইলেও, আমেরিকা এখন পর্যন্ত সেটা দেয়নি। বরং, উলটো ফিলিস্তিনের মাতৃভূমিতে অবৈধ দখলদার ইসরায়েলের পক্ষ নিয়েছে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো জর্জ ডব্লিউ বুশ শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি যে "ইরাকে প্রাণঘাতী অস্ত্র" রয়েছে। ইরাকে সে অবৈধ যুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারায় এবং আরো লক্ষ লক্ষ মানুষ আহত হয় ও বাস্তুচ্যুত হয়
এবং গত ১৭ বছর ধরে ইরাক অস্থিতিশীল এবং প্রতিনিয়ত এখনো মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এই ইরাক আর কখনো স্থিতিশীল হবে কিনা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না বা বলার সুযোগও নেই।

অথচ, তেল সমৃদ্ধ এই ইরাক একসময় এতোটাই স্থিতিশীল ছিল যে, বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ সেখানে কাজ করতে যেত। তাহলে ইরাকে লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিচার হবে কি? এই অবৈধ যুদ্ধ যারা বাধিয়েছেন, তাদের বিচার হবে কি?

ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকার মিথ্যা অভিযোগে যুদ্ধের সূত্র ধরে মাঝে মাঝে নিজের প্রশ্ন জাগে- ২০০১ সালে আল-কয়েদার বা তালেবান সরকার কী এমন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করলো যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র আমেরিকার গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে তারা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কে টুইনটাওয়ারে সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছিল, যেখানে তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া পর্যন্ত এমন হামলা চালাতে পারেনি! এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমি আজও খুঁজে পাইনি।

লেখক: অনলাইন এক্টিভিস্ট

ad728
মন্তব্য করুন
ad300