ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

ভবিষ্যতে ঢাবিকেন্দ্রিক রাজনীতি সেন্ট্রালে টিকবে না

মো. আব্দুর রহমান
মো. আব্দুর রহমান, সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
ফেসবুকে শেয়ার
ভবিষ্যতে ঢাবিকেন্দ্রিক রাজনীতি সেন্ট্রালে টিকবে না
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলন ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মো. আব্দুর রহমানের এই ছবিটি বহুবার ভাইরাল হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য একটি সুন্দর আইন হয়েছে। এই আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে সর্বোচ্চ সম্মান, শিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিত করার পরিবেশ এবং ক্লাব কার্যক্রমে সমান সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

আন্দোলনের সময় নানা উপায়ে আমাদের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই রেখে সাতটি কলেজের জন্য আলাদা প্রশাসনিক ভবন করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। সচিবালয়ের বৈঠকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়। আরও যা চাই, তাৎক্ষণিকভাবে তাও পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। 

কিন্তু আল্লাহ সাক্ষী, আমরা এক সেকেন্ডের জন্যও আপস করিনি। ষড়যন্ত্র যেদিকে এগিয়েছে, আমরা কাজ করেছি তার বিপরীত দিকে। আমাদের চাওয়া ছিল একটাই—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ক্যাম্পাসগুলো যেন ভবিষ্যতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আইনে আমরা যা চেয়েছি, তা-ই হয়েছে। 

এখন প্রয়োজন সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমে আইনটির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এর ধারা-উপধারাগুলো সম্মিলিত মুক্তির পথ দেখায়।

ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষাবিদ বলেছেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও আমি লেখাটিকে সে দিকে নিতে চাই না, তবু এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠদের আক্ষেপ ও কষ্টের কথা শুনলে মন খারাপ হয়। আমরা তাঁদের সম্মান করি এবং সম্মান দিতে চাই।

সাতটি ক্যাম্পাসের সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলো একযোগে ঢাবিকেন্দ্রিক কর্মসূচি বর্জন করলে এখনই নিজেদের অধিকার আদায় করা সম্ভব। কিন্তু জ্যেষ্ঠ নেতারা যদি এখনো সেই সিদ্ধান্ত না নেন, কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কেউ না কেউ ঠিকই তা করবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্মই হয়েছে উচ্চশিক্ষার বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে। দলমত-নির্বিশেষে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসের জ্যেষ্ঠদের সম্মান করেন।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ঢাবিকেন্দ্রিক মানসিকতা পরিহার করতে পারলে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সাতটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরাই যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসবেন। তখন এ দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীরা নিজেরাই এখানকার ছাত্রনেতাদের ডেকে নেবেন। তাদের আর কারও মাধ্যমে যেতে হবে না।

সময় বদলেছে। আগের মতো আর নেই ক্যাম্পাসগুলোর শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কথা বলতে শেখানো হয়েছে, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। এখন ক্যাম্পাসগুলোতে বিতর্কচর্চাও চলছে পুরোদমে। কীভাবে মাথা উঁচু করে অধিকার আদায় করে নিতে হয়, সেই শিক্ষা সাতটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের এখন ভালোভাবেই জানা। এখন শুধু প্রয়োজন ঐক্য, স্বার্থহীনতা ও দূরদর্শিতা। কারণ, কথার চেয়ে বড় কোনো অস্ত্র নেই।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনৈতিক আধিপত্য থেকে মুক্তি পান—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সেন্ট্রাল গড়বে দেশ!

আমি এবং আমার মতো আরও কয়েকজন গত দুই বছর ধরে কী বলতে চেয়েছি, কেন ক্যাম্পাসভিত্তিক বৈষম্যহীন বিশ্ববিদ্যালয় আইনের দাবি জানিয়েছি, তা আজ হোক বা কাল—সবাই বুঝতে পারবেন।

আমি আশাবাদী, সব সংকট কাটিয়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক ও একাডেমিক অধিকার অর্জন করবেন। সেই অধিকার তাদের পেতেই হবে।

লেখা ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
ad728
ad600