দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটলেও পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে হোটেল-রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের প্রাণহানি, অন্যদিকে শহরের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সশস্ত্র ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আবাসন থেকে শুরু করে সড়কপথের এমন অনিরাপদ পরিবেশ দেশের এই প্রধান ভ্রমণকেন্দ্রটির সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সম্প্রতি উখিয়ার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ঠিক দুই দিন পরই ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের দুই দফার দীর্ঘ তাণ্ডব ও লুটপাট প্রকাশ্যে আনে নিরাপত্তার করুণ চিত্র।
এছাড়া শহরের ঝাউতলায় বার-সংঘর্ষে প্রাণহানি এবং সিটি কলেজ গেটে নির্মাণশ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা পর্যটন শহরের সার্বিক নিরাপত্তাবেষ্টনী ধসে পড়ার সঙ্কেত দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মনে এখন নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে।
ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় গত সোমবার সকালে ও দুপুরে ঘটে যায় এক ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনা। মুখোশধারী ৮ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়ক অবরোধ করে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে ৫০টির মতো যানবাহন থামিয়ে অন্তত ১২০ থেকে ১৫০ জন যাত্রীর টাকা ও জিনিসপত্র লুট করা হয়। অনেককে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধরও করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ী আমজাদ উল্লাহর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আরেক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ তারেক প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দেন।
এছাড়া একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী আবদুল হাকিমকে জিম্মি করে টাকা ও চেকবই কেড়ে নেওয়া হয়। দিনের আলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো টহল দল না থাকার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে ঈদগাঁও থানার কর্মকর্তা জানান, পাহাড় ও জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা দুর্বৃত্তদের ধরতে অভিযান চলছে এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে।
হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন না থাকা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি বড় ঝুঁকিতে ফেলছে বেড়াতে আসা মানুষকে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শান্ত ইসলাম জানান, পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে এসে সবাই নিরাপদ পরিবেশ চান। কিন্তু প্রায়ই ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের খবর তাদের আতঙ্কিত করে তুলছে। ভ্রমণপিপাসুদের জীবনের সুরক্ষা দিতে সড়কগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল ও হোটেলগুলোতে সঠিক অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার নাগরিক সমাজ মনে করছে, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। একের পর এক অপরাধ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
তবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, যেকোনো অপরাধের পর আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের সুরক্ষিত রাখতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।




















