চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই পাস করতে পারেননি। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
তবে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি বা সম্পূরক পরীক্ষার সুযোগ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে এ পরীক্ষা শুরু হতে পারে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এবার মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আগামী ডিসেম্বরে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরীক্ষার ফরম পূরণ চলবে ৩ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন চলবে ১ থেকে ২০ নভেম্বর।
পরীক্ষা শুরু হতে পারে ২ ডিসেম্বর। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ ৩১ ডিসেম্বর।
তবে বিদ্যমান বিধিমালায় এ ধরনের পরীক্ষার সুযোগ নেই। তাই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির তৈরি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন কর্মপরিকল্পনায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার রাতে কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষরিত কর্মপরিকল্পনায় সম্ভাব্য পরীক্ষার তারিখ ও ফল প্রকাশের সময় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হবে ১ থেকে ৭ নভেম্বর। ৯ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন। যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যেন আরও একটি বছর নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।’

















