ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউই, ইসরায়েলে সরকার হবে কীভাবে

The Daily Moon
জুবায়ের হোসাইন সিয়াম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউই, ইসরায়েলে সরকার হবে কীভাবে
নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে দক্ষিণপন্থি ও অতি দক্ষিণপন্থি দলগুলো।
ইসরায়েলের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো শিবিরই।

১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজন অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন। নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। আর সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮ আসন।

বাকি ১৯ আসন গেছে আরব নেতৃত্বাধীন দুই দলের হাতে। জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি এবং রাআম পেয়েছে ৮টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনে এখন আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে দক্ষিণপন্থি ও অতি দক্ষিণপন্থি দলগুলো। অন্যদিকে আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবিরে রয়েছে মধ্যপন্থি ও উদারপন্থি দল।

সংখ্যার হিসাবে কয়েকটি পথ খোলা থাকলেও প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় রাজনৈতিক ও আদর্শিক বাধা। আর কোনো সমঝোতা না হলে আবার নির্বাচনে যেতে হতে পারে ইসরায়েলকে।

হিসাবের দিক থেকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সবচেয়ে সহজ পথ হতে পারে বিরোধী শিবির ও আরব দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা।

আইসেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের ৪৮ আসনের সঙ্গে জয়েন্ট লিস্ট ও রাআমের ১৯ আসন যোগ হলে সংখ্যাটি ৬১-এর সীমা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা এতটা সহজ নয়।

বিরোধী শিবিরের ডানপন্থি দুই নেতা নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন।

আরব দলগুলো সরাসরি সরকারে যোগ দিক কিংবা বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিক—দুই ক্ষেত্রেই তাদের আপত্তি রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এই অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

তবে ইসরায়েলে এমন জোটের নজির রয়েছে। ২০২১ সালে আট দলের জোটে যোগ দিয়েছিল রাআম। দেশটির ইতিহাসে এটিই ছিল কোনো আরব দলের পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারে অংশ নেওয়ার প্রথম ঘটনা।

সেই জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিল। তবে এক বছরের কিছু বেশি সময় পর সরকারটি ভেঙে পড়ে।

এবারও আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে বিরোধীরা সরকার গঠনের পথে এগোতে পারে। কিন্তু বেনেট ও লিবারম্যানের অবস্থানের কারণে সেই পথ কঠিন হয়ে উঠেছে।

সরকার গঠন করতে না পারলেও বিরোধীরা আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে নেসেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

বর্তমান স্পিকারকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

এতে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো দুই প্রধান শিবিরের মধ্যে সমঝোতায় জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন।

এ ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর লিকুদ এবং তার বর্তমান জোটের কয়েকটি দল থাকতে পারে। সরকার গঠনের জন্য বিরোধী শিবির থেকেও অন্তত একটি দলকে তার সঙ্গে যেতে হবে।

এমন সমঝোতায় নেতানিয়াহু উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে বাদ দিতে রাজি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোকে ছাড়তে তিনি আগ্রহী নন।

সবচেয়ে বড় বাধা গাদি আইসেনকোট। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকারে যাবেন না।

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া অনেক ভোটারের কাছেও এমন সমঝোতা গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে। ফলে অবস্থান বদলালে আইসেনকোটকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

নেতানিয়াহুর সামনে আরেকটি পথ হলো বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানো।

তিনি বিরোধী কোনো দলকে নিজের জোটে আনার চেষ্টা করতে পারেন। পুরো দলকে পাওয়া সম্ভব না হলে আলাদাভাবে কয়েকজন আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও হতে পারে। তবে এই পথও সহজ নয়।

আইসেনকোট, বেনেট, লিবারম্যান ও ডেমোক্র্যাট নেতা ইয়াইর গোলান—বিরোধী শিবিরের প্রধান নেতারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকারে না যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে। ফলে বিরোধী শিবির ভেঙে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা কঠিন হতে পারে।

আগের কোনো পথ সফল না হলে শেষ পর্যন্ত আবার নির্বাচনে যেতে হবে ইসরায়েলকে।

তার আগে অবশ্য সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষ হবে।

প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ প্রথমে নেসেটে জায়গা পাওয়া দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, সে বিষয়ে মতামত নেবেন তিনি।

এরপর সরকার গঠনের জন্য একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট।

আরব দলগুলো আইসেনকোটকে সমর্থন করলে ইয়াশার নেতা প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারেন।

যিনি প্রথম দায়িত্ব পাবেন, তিনি সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় দেওয়া যেতে পারে।

তিনি ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় একজন নেতাকে সুযোগ দেওয়া হবে। তিনিও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন।

সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করতে পারবেন। তিনি সময় পাবেন ১৪ দিন।

এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচনই হবে শেষ পথ।

অপেক্ষায় থেকেও সুবিধায় নেতানিয়াহু

এই দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি সুবিধা রয়েছে নেতানিয়াহুর।

নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আইসেনকোট প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হলে এরপর নেতানিয়াহুর হাতে দায়িত্ব যেতে পারে।

তিনিও ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচনের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

নতুন নির্বাচন হলে সেটি আগামী বসন্তের আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম। তত দিন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন নেতানিয়াহু।

ফলে নির্বাচনে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে না তাকে।

ইসরায়েলের সামনে তাই কয়েকটি পথ খোলা। কিন্তু কোনোটিই সহজ নয়।

আরব দলগুলোর সঙ্গে বিরোধীদের সমঝোতা, জাতীয় ঐক্যের সরকার অথবা বিরোধী শিবিরে ভাঙন—এর কোনো একটি না ঘটলে দেশটিকে আবার ভোটকেন্দ্রে ফিরতে হতে পারে।

সেটি হলে আট বছরের মধ্যে সপ্তমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারে ইসরায়েল।
ad728
ad600