ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

কোনো কিছু অর্ডার না করে বসা যাবে না স্টারবাকসে

মেহেরীন চৌধুরী
মেহেরীন চৌধুরী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
কোনো কিছু অর্ডার না করে বসা যাবে না স্টারবাকসে
চীনের বাজারে স্থানীয় কফি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে স্টারবাকস। ছবি : সংগৃহীত
চীনে স্টারবাকসের ক্যাফেতে বসে সময় কাটাতে হলে এবার কিছু কিনতেই হবে। কোনো পণ্য না কিনে দোকানের আসন ব্যবহার করা যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দেশটির স্টারবাকসের সব (৮ হাজার) শাখায় এ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। গ্রাহকদের জন্য দোকানের ভেতরের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনের বাজারে স্থানীয় কফি ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে স্টারবাকস। বিশেষ করে তুলনামূলক কম দামে কফি বিক্রি করা লাকিন কফির মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দোকানের আসন ব্যবহারের নিয়মে পরিবর্তন আনল প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিনা পয়সায় বসে থাকা গ্রাহক এবং দোকানের আসন দীর্ঘ সময় দখল করে রাখার সমস্যা মোকাবিলা করছে স্টারবাকস।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সম্প্রতি গ্রাহকদের দোকানে বড় আকারের জিনিসপত্র নিয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ প্রিন্টার ও ডেস্কটপ কম্পিউটার নিয়ে এসে দীর্ঘ সময় আসন দখল করে রাখছিলেন।

উত্তর আমেরিকায়ও কয়েক বছর ধরে চালু থাকা উন্মুক্ত প্রবেশনীতি পরিবর্তন করেছে স্টারবাকস। আগে কিছু না কিনেও গ্রাহকেরা দোকানের আসন ও শৌচাগার ব্যবহার করতে পারতেন।

পরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এখন থেকে অর্থ দিয়ে পণ্য কেনা গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চীনেও এবার একই পথে হাঁটছে তারা।

বুধবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই চীনের স্টারবাকসের নতুন নিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে দোকানে বসতে হলে কিছু কেনার নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ডের ভিডিও।

নতুন নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন চীনের অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। তাদের মতে, কিছু না কিনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা মানুষের কারণে ব্যস্ত সময়ে অন্য গ্রাহকেরা আসন পান না।

গত মাসে চীনের সিচুয়ান প্রদেশের একটি স্টারবাকস শাখার বাইরের আসন ও টেবিল শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হয়, টাকা না দিয়ে যাতে কেউ সেগুলো ব্যবহার করতে না পারেন, সে জন্যই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তখন বিতর্কের জন্ম দেয়।

১৯৯৯ সালে চীনে প্রথম শাখা খোলার পর দেশটি এখন স্টারবাকসের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাকিন কফিসহ স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম দামে কফি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

লাকিনের অ্যাপভিত্তিক অর্ডার ব্যবস্থাও বেশ শক্তিশালী। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই অর্ডার দিয়ে কফি নিয়ে চলে যেতে পারেন। এতে স্টারবাকসের প্রচলিত ক্যাফে-অভিজ্ঞতাভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্টারবাকসের মডেলে ক্রেতারা দোকানে বসে খাবার ও পানীয় উপভোগ করার সুযোগ পান।

২০২৩ সালে চীনের বৃহত্তম কফি চেইন হিসেবে স্টারবাকসকে ছাড়িয়ে যায় লাকিন কফি।

গত বছর স্টারবাকস জানিয়েছিল, চীনে তাদের ব্যবসার ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। বয়ু ক্যাপিটাল নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের চুক্তির অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

বুধবার দেওয়া আরেক বিবৃতিতে স্টারবাকস চীন জানিয়েছে, শাখাগুলোতে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ব্যস্ত সময়েও যাতে গ্রাহকেরা দ্রুত ও আন্তরিক সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ad728
ad600