ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেতে পারেন গাদি, নেতানিয়াহু কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফেসবুকে শেয়ার
৬৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেতে পারেন গাদি, নেতানিয়াহু কত?
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে। সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের সমীকরণ আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’।

আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জোটটি জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটের নাম সুপারিশ করবে।

নেসেটে ১২০টি আসনের মধ্যে জয়েন্ট লিস্টের রয়েছে ১১টি আসন। এর আগেই আরেক আরব রাজনৈতিক দল ‘রা’আম’ আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, যাদের আসনসংখ্যা আট।

এই দুই দলের মোট ১৯ জন আইনপ্রণেতার সায় মেলায় সরকার গঠনের লড়াইয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে গেলেন আইজেনকট। সব মিলিয়ে তার ঝুলিতে এখন ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন জমা হতে পারে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও ছয়টি বেশি।

প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে। সেখানে আরব জোট ও দলগুলোর হাত ধরে আইজেনকটের পাল্লা ৬৭টি আসনে গিয়ে ভারী হচ্ছে।

অন্যদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের হাতে রয়েছে ৫৩টি আসন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জোটের সবাই শেষ পর্যন্ত তাকে সমর্থন দেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে।

সংকট তৈরি হয়েছে অতি-রক্ষণশীল দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমকে ঘিরে। দলটির সাতটি আসনের মধ্যে চারটি নিয়ন্ত্রণ করে দেগেল হা তোরাহ। তারা ইতিমধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট কাউকেই সরকার গঠনের জন্য সুপারিশ করবে না তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, কট্টরপন্থী ইহুদি তরুণদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ থেকে ছাড় দেওয়ার যে আইন, তা পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে নেতানিয়াহুর জোট। এই অচলাবস্থার কারণেই মূলত জোটসঙ্গীদের সঙ্গে নেতানিয়াহুর দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ গত সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল হাতে পাওয়ার পর থেকেই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। গতকাল বুধবার তিনি ধর্মীয় জায়নবাদ, জেহুত, শাস ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেন।

প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কোন আইনপ্রণেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন দলের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারও আলোচনার এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ শেষে প্রেসিডেন্ট এমন এক প্রার্থীকে আহ্বান জানাবেন, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল। সে হিসেবে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু নাকি আইজেনকট, কার কাঁধে সরকার গঠনের ভার পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

২৮ দিনের সময়সীমা

প্রেসিডেন্টের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব।

তবে নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো প্রার্থীই স্থিতিশীল সরকার গড়তে না পারেন, তবে দেশকে আবারও নতুন নির্বাচনের দিকে হাঁটতে হবে। সেক্ষেত্রে আগামী বছরের শুরুতেই নতুন করে ভোটগ্রহণ হতে পারে ইসরায়েলে।
ad728
ad600