আমি প্রফেসর ইউনূসের ঘোর সমালোচক। উনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমি নির্মমভাবে উনার সমালোচনা করেছি। এতে কোনো সমস্যা হয়নি।
প্রফেসর ইউনূসের প্রেস সচিব শফিক ভাই এরপরও আমার সাথে কথা বলেছেন। আমরা আড্ডা দিয়েছি। উনার বাসায়। উনি প্রপার ওয়েতে ইউনূসকে ডিফেন্ড করেছেন। আমিও পাল্টা যুক্তি দিয়েছি।
খুব সম্ভবত এটা ছিলো একটা সভ্য আলোচনা সমালোচনা, সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় আলোচনার উদাহরণ।
কিন্তু আজ নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে যে ব্যাপারটা ঘটলো, এটা বর্বর। একদল লোক মিলে এক হুইলচেয়ার আরোহী প্রবীণকে গালি দেয়া, ধাওয়া দেওয়া, এটা অসভ্যতার চূড়ান্ত নিদর্শন।
এই ঘটনা নতুন না। বরং এটাই এখন ট্রেন্ড। এর আগে জুলাইপন্থী অনেকেই বিমানবন্দরে, বিদেশের মাটিতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এখন জুলাইপন্থীরা বিদেশে গেলে পালিয়ে থাকেন, নয়তো লো প্রোফাইল মেইনটেইন করেন।
এর সমাধান কী? এটা বোঝার জন্য আসেন, আমরা একটা মেন্টাল এক্সারসাইজ করি। ধরেন, আমেরিকান বা ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় কোনো নাগরিক বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে বা বাংলাদেশের কোথাও লাঞ্ছিত হলেন। এর প্রতিক্রিয়া কী হতো জানেন?
ভয়াবহ। অতি অতি অতি ভয়াবহ। তছনছ হয়ে যেতো সব কিছু।
আমি ইতালিয়ান নাগরিক না। কিন্তু ইতালির একটা অর্গানাইজেশনের হয়ে আমি কাজ করতাম।
একবার আমাকে পুলিশ পিটিয়েছিলো। পুরো ইতালি রাষ্ট্র ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। বাংলাদেশ সরকারকে ভালো বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিলো।
বাংলাদেশের কোনো নাগরিক, সেটা ডিগনিটারি নাগরিক কিংবা সাধারণ নাগরিক যদি লাঞ্ছিত হন, তাহলে এটি দেখভালের দায়িত্ব বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস কী করে? এরা মূলত ঘোড়ার ঘাস কাটে। সমস্যা হচ্ছে ঘোড়া এবং ঘোড়ার ঘাস- দুটোই এক্ষেত্রে কাল্পনিক। সো, এরা বিদেশে বসে বসে কাল্পনিক ঘোড়ার কাল্পনিক ঘাস কাটে।
গরিব দেশের ট্যাক্সপেয়ারদের টাকায় বিদেশে যে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো রয়েছে, এদের কোনো কাজ নাই। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এদের কোনো কাজ নাই। কাজ কী এটা এরা জানে না।
বিদেশের এম্বাসিতে পোস্টিং মানে হচ্ছে লটারির টিকেট জেতা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মূলত এক ধরনের উপহার টাইপের পোস্টিং।
বিদেশি কারেন্সিতে অবিশ্বাস্য বেতনে খেয়ে, ঘরে বসে ঝিমানো। এদিক ওদিক দাওয়াত খেয়ে বেড়ানো। মাঝে মাঝে ফেসবুকে সরকারের চামচামি করা... এর বাইরে এই প্রজাতির কোনো কাজকর্ম নাই।
নোবেলজয়ী ইউনূস আমেরিকার মাটিতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। ইউনূস যদি ভারতের হতেন, কিংবা ইউরোপীয় কোনো দেশের, তাহলে এতক্ষণে আমেরিকার মূলধারার মিডিয়ায় তোলপাড় হতো।
আমেরিকায় বাংলাদেশের দূতাবাসের অধিকাংশ লোক ইংরেজি বলতে পারেন না। আমি শুনেছি, আমেরিকায় পোস্টিং দেওয়ার সময়, এটি নাকি বাংলাদেশ সরকার থেকে নিশ্চিত করা হয়। যাতে এরা ইংরেজি না বলতে পারে।
বিশেষ করে প্রেস উইংয়ে যারা কাজ করেন, এদেরকে চাবুক মারলেও একটি ইংরেজি শব্দ বের হবে না। ভুল বললাম, তিনটা ইংরেজি শব্দ বের হবে, ১. ইয়েস ২. নো ৩. ভেরি গুড। এর বাইরে এরা কিছু জানে না।
যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে, যারা বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা বাংলাদেশে স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে, তারা আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নাজেহাল হবেন। তাদেরকে ডিম ছুড়ে মারা হবে। তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হবে।
বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো বসে বসে তখন নেটফ্লিক্সে তামিল সিনেমা দেখবে। উইকেন্ডে বড়লোকদের বাসায় দাওয়াত খাবে। রাতে সরকারের প্রশংসা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেবে। এটাই বাংলাদেশের ফরেন ডিপ্লোমেসি।
প্রিয়, তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি বিদেশের মাটিতে সকল বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা দাবি করছি।
বাংলাদেশের লোকজন দিনের পর দিন লাঞ্ছিত হচ্ছেন, এর প্রতিবিধান করা খুবই সহজ।
লজ্জা লাগছে বলতে। তবু বলি, আমি ফ্রি কনসালটেন্সি অফার করছি। বিদেশের মাটিতে কেউ যদি আপনাকে লাঞ্ছিত করে, তাহলে তার কীভাবে প্রতিকার পাবেন, আমি সেই পথ বাতলে দেবো।
এটা খুবই সহজ কাজ। বিদ্যমান আইন এবং ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সমাধান খুবই সম্ভব।
শুধু আপনাদের এম্বেসিকে বলেন, বেতনের পয়সা যেন এরা হালাল করে। একটু যাতে কাজ করে।
আপনি বিদেশে গেলেন, আপনাকে সালাম দিলো, আপনার সাথে লাইন ধরে দলবেঁধে হাত মেলালো, তারপর ওই ছবি ফেসবুকে দিয়ে আপনার গুণগান গাইলো, এটা ডিপ্লোম্যাটদের কাজ না। এই খ্যাত, এই গ্রাম্যদের হাত থেকে বাংলাদেশকে আপনি বাঁচান। প্লিজ।
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত


 (1).jpg)




















