ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

কঙ্গো থেকে ৪ দেশে ছড়িয়েছে ইবোলা, কী বলছে ডব্লিউএইচও

আরিফ আহমেদ তূর্য
আরিফ আহমেদ তূর্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
কঙ্গো থেকে ৪ দেশে ছড়িয়েছে ইবোলা, কী বলছে ডব্লিউএইচও
উগান্ডায় মোট ২০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৫ জন কঙ্গোর নাগরিক।
কঙ্গোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ আরও চারটি দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দুটি দেশে এখনো সক্রিয় সংক্রমণ রয়েছে। আফ্রিকার মধ্য, পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল– তিন অঞ্চলেই ছড়িয়েছে এই প্রাদুর্ভাব। এর আগে ইবোলার কোনো প্রাদুর্ভাব এত বিস্তৃত এলাকায় ছড়ায়নি।

গত মঙ্গলবার নতুন করে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে নাইজেরিয়ায়। গত মে মাসের মাঝামাঝি কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়েছিল। বিরল বুন্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে ছড়ানো এই ইবোলার অনুমোদিত টিকা নেই। কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৯ হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে অন্তত ৪ হাজার ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইতিহাসে ইবোলার এটিই সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাব। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে নজরদারির দুর্বলতা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের উপসর্গ দেখা দেওয়ার বেশ কিছুদিন পর কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্য এলাকায় ভ্রমণের পর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় এক নারীর শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি উগান্ডা থেকে দেশটিতে এসেছিলেন।

গত ৭ অক্টোবর ওই নারীর শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়। ১১ অক্টোবর তাকে আবুজার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

তিনি ঠিক কবে নাইজেরিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ পাতে জানিয়েছেন, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ৪৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের সংক্রমণের ঝুঁকি যাচাইয়ে কাজ চলছে। এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রতিবেশী কঙ্গোতে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার দিনই উগান্ডায় ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। কঙ্গো থেকে আসা এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে।

উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিকে কঙ্গোর কয়েকজন রোগী অজ্ঞাত অসুস্থতার চিকিৎসা নিতে সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডায় এসেছিলেন। তখনো তারা ইবোলায় আক্রান্ত, তা জানা যায়নি।

উগান্ডায় মোট ২০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৫ জন কঙ্গোর নাগরিক। ১৮ জন সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং দুজনের মৃত্যু হয়। গত ২৭ আগস্ট বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশটিতে প্রাদুর্ভাবের অবসান ঘোষণা করে।

এ সময় আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ৮০০ জনের বেশি মানুষকে শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার উগান্ডা জানিয়েছে, দেশটিতে এখন নতুন কোনো সংক্রমণ নেই।

গত ৬ অক্টোবর কেনিয়ায় প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়। ওই ব্যক্তি কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। ৩ অক্টোবর তিনি রাজধানী নাইরোবিতে পৌঁছান। ৫ অক্টোবর তার ইবোলা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। একই দিন তার মৃত্যু হয়।

কেনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম রোগীর চারজন আত্মীয় এবং চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ নয়জন রোগীর সংস্পর্শে আসা ১৩৫ জনকে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে ১৩৪ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম রোগীর পরিচিত সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কারও মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এই প্রাদুর্ভাবে আফ্রিকার বাইরে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া একমাত্র দেশ ফ্রান্স। গত জুনে কঙ্গো থেকে দেশে ফেরার পর এক চিকিৎসকের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

ওই চিকিৎসক কঙ্গোর সংক্রমণপ্রবণ একটি এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। ফ্রান্সে ফেরার পর তাকে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং গত ৪ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
ad728
ad600