ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

‘এখানে সবাই নাথান ফিল্ডারের সঙ্গে যৌনমিলন করতে চায়’

জুবায়ের হোসাইন সিয়াম
জুবায়ের হোসাইন সিয়াম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
‘এখানে সবাই নাথান ফিল্ডারের সঙ্গে যৌনমিলন করতে চায়’
‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ ছবিতে নাথান ফিল্ডার ও এলিজাবেথ হোমস। ছবি : সংগৃহীত
কানাডিয়ান অভিনেতা নাথান ফিল্ডারের নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ দেখে তার প্রতি আকর্ষণ যেন নতুন করে আবিষ্কার করেছেন দর্শকেরা। পর্দায় তার অস্বাভাবিক শারীরিক ভঙ্গি, শান্ত স্বভাব, গভীর দৃষ্টি আর মানুষের কথা মন দিয়ে শোনার ধরন– সব মিলিয়ে অনেকের চোখে তিনি এখন আকর্ষণীয় এক পুরুষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা। কেউ তার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ, কেউ আবার সরাসরি জানিয়েছেন, ফিল্ডারের প্রেমে পড়ে গেছেন তারা।

ফিলাডেলফিয়ার ৩৩ বছর বয়সী ড্র্যাগ শিল্পী জোয়ানি মন্টগোমারি গত সপ্তাহে ছবিটি দেখেছেন। এরপর থেকে তার মনে গেঁথে আছে একটি দৃশ্য। সেখানে ফিল্ডারকে সাঁতারের পোশাকে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন ছবির অন্যতম চরিত্র এলিজাবেথ হোমস।

মন্টগোমারির ভাষায়, দৃশ্যটি ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ। সেখানে ফিল্ডারকে তার দারুণ সুন্দর মনে হয়েছে। নিজের আকর্ষণের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ফিল্ডারকে তার ভীষণ প্রয়োজন।

ফিল্ডার ও ল্যান্স ওপেনহাইম পরিচালিত ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে। বক্স অফিসে আয় করেছে বিপুল অর্থ। সমালোচকদের কাছ থেকেও পেয়েছে ব্যাপক প্রশংসা।

সংবাদমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, এমনকি অস্কার নিয়েও তৈরি হয়েছে সম্ভাবনার কথা। তবে ছবিটির সাফল্যের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি বিষয়, সেটি হলো নাথান ফিল্ডারের প্রতি দর্শকের যৌন আকর্ষণ।

যারা আগে ফিল্ডারের অস্বস্তিকর ও অদ্ভুত উপস্থিতির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, তাদের অনেকের কাছেই এই প্রতিক্রিয়া বিস্ময়কর। কারণ, তার আগের কাজগুলোতেও তিনি নিজেকে এমন এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন, যাকে সহজে প্রচলিত আকর্ষণীয় পুরুষের ছাঁচে ফেলা যায় না।

নিউইয়র্কের ২৮ বছর বয়সী লেখক ডালাস বলেছেন, ‘ছবিটি দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। একই সঙ্গে নাথান ফিল্ডারের প্রতি গভীর এক মমতাও তৈরি হয়েছে। সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে মনে হচ্ছিল, তাকে যেন পছন্দ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছি। কারণ, আমি নাথান ফিল্ডারের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে যেতে চাই, আর এখানে উপস্থিত সবাইও তাই চায়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। টিকটকে কেউ ফিল্ডারের শান্ত অথচ দৃঢ় আচরণের প্রশংসা করেছেন। কেউ বলেছেন, তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু তা দেখানোর বাড়াবাড়ি নেই। আবার কেউ তাকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার পাশে ঘেঁষে বসতে ইচ্ছা করে।

কিছু দর্শকের মতে, ফিল্ডারের প্রতি এই আকর্ষণ বুঝতে না পারা পুরুষেরা নারীর দৃষ্টিভঙ্গির জটিলতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেন না।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সোফিয়ার কাছে ফিল্ডারের আকর্ষণের বড় কারণ তার চিন্তাশীলতা। তার ভাষায়, ফিল্ডারের মনের ভেতর যেন একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ রয়েছে। সেখানে তিনি কী বলবেন, কীভাবে বলবেন- সবকিছু নিয়ে সতর্কভাবে ভাবেন। আর এই বিষয়টিই তার কাছে আকর্ষণীয়।

নাথান ফিল্ডারকে যৌন আকর্ষণের প্রতীক হিসেবে দেখার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে এইচবিওতে তার সিরিজ ‘দ্য রিহার্সাল’ মুক্তির পরও তাকে নিয়ে এমন আলোচনা হয়েছিল।

সে সময় নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের ‘দ্য কাট’ তার অদ্ভুত যৌন আবেদন নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করে। সেখানে ফিল্ডারের বুদ্ধিমত্তা, দুর্বলতা প্রকাশের ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণপ্রবণতার মিশ্রণকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

একই সময়ে ‘দ্য ডেইলি বিস্ট’-এও তাকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ভক্তদের কেউ তার কণ্ঠের প্রশংসা করেছেন, কেউ তার দক্ষতার, আবার কেউ ক্যামেরার সামনে নিজেকে বিব্রতকর অবস্থায় তুলে ধরার সাহসের। 

লেখক মারিয়ানে এলোয়েজের মতে, কারও আকর্ষণ যদি প্রচলিত ধারণার বিপরীতে যায়, তাহলে সেটি ঠিক কী কারণে তৈরি হচ্ছে, তা বুঝতে আমাদের সময় দিতে হয়।

তবে ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ ফিল্ডারের প্রতি আগ্রহকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ডালাস জানিয়েছেন, ছবিটি দেখতে যাওয়ার আগে ফিল্ডারকে নিয়ে তার বিশেষ কোনো অনুভূতি ছিল না। কিন্তু সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার সময় তার মনে হয়েছিল, তিনি যেন নতুন করে কাউকে পছন্দ করতে শুরু করেছেন।

ছবিটির দৃশ্যধারণও দর্শকের এই অনুভূতিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন অনেকে। দীর্ঘ সময় ধরে চরিত্রগুলোর মুখের খুব কাছ থেকে দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। ডালাসের কাছে এসব দৃশ্য এমন এক অনুভূতি তৈরি করেছে, যেন তিনি নিজেই ফিল্ডারের খুব কাছে বসে আছেন কিংবা একই ঘরে সময় কাটাচ্ছেন।

ছবিটির প্রধান চরিত্র ফিল্ডার, হোমস, তার সঙ্গী বিলি ইভান্স এবং অভিনেত্রী আমান্ডা সেফ্রিডের মধ্যকার সম্পর্কেও অনেকে যৌন উত্তেজনা ও রসায়ন খুঁজে পেয়েছেন। দীর্ঘ নীরবতা, একে অপরের দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে থাকা, মৃদু ঠাট্টা ও ব্যক্তিগত কথোপকথন- এসব দৃশ্য দর্শকের কল্পনাকে উসকে দিয়েছে।

একটি দৃশ্যে ইভান্সকে ফিল্ডার ও তার দলের সামনে নগ্ন অবস্থায় গোসল করতে দেখা যায়। অন্য একটি দৃশ্যে অগ্নিকুণ্ডের পাশে ফিল্ডার ও সেফ্রিডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কথোপকথন হয়।

মন্টগোমারি জানিয়েছেন, ছবির অন্য বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার আগেই তার মনে হয়েছিল, তিনি শুধু চান চরিত্রগুলো পরস্পরকে চুমু খাক। হোমস ও ইভান্সের বাড়িতে ফিল্ডারের থাকার একটি দৃশ্যের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। সেখানে ফিল্ডারের জন্য আলাদা গদি রাখা হয়নি।

মন্টগোমারির কাছে বিষয়টি এমন ইঙ্গিত দিয়েছিল, যেন তাকে ওই দম্পতির বিছানায় জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ছবির আরেক পর্যায়ে তিনজনকে একই বিছানায় বসে সেফ্রিডের অভিনীত হোমসের চরিত্র দেখতে দেখা যায়। এসব দৃশ্যের পর চরিত্রগুলোকে একসঙ্গে নগ্ন অবস্থায় কল্পনা করা তার পক্ষে কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন মন্টগোমারি।

সোফিয়ার কাছেও ফিল্ডার ও হোমসের কথোপকথন বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। তার মতে, তাদের মধ্যে এমন এক রসায়ন রয়েছে, যা শারীরিক স্পর্শ ছাড়াই যৌন ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি তৈরি করে। তারা যেভাবে কথা বলেন, একে অপরের সঙ্গে যেভাবে যোগাযোগ করেন, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

ফিল্ডারকে প্রচলিত অর্থে সুদর্শন মনে করেন না সবাই। পেনসিলভানিয়ার ২৬ বছর বয়সী উভকামী পুরুষ ব্রেকারও স্বীকার করেছেন, ফিল্ডারকে প্রচলিত সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় ফেলা কঠিন। তবে তার পাকা-কালো চুল ও মুখের খোঁচা খোঁচা দাড়ি ব্রেকারের চোখে তাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

ব্রেকারের মতে, ফিল্ডারকে কম বয়সেও মধ্যবয়সী দেখাত। এখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারার সেই বৈশিষ্ট্য আরও মানিয়ে গেছে। এতে তাকে আগের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।

ছবিটির সহপরিচালক ল্যান্স ওপেনহাইমও ফিল্ডারের চেহারা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ছবিতে ফিল্ডারের মুখের খুব কাছ থেকে দৃশ্য ধারণ করার সময় তাকে বেশ সুদর্শন মনে হয়েছে।

ফিল্ডার অবশ্য নিজের মুখের ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণের দাগ নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওপেনহাইমের মতে, এসব বৈশিষ্ট্যই তাকে আরও ভালোভাবে পর্দায় তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, ফিল্ডার প্রচলিত পুরুষালি সৌন্দর্যের ধারণা থেকে অনেকটাই আলাদা।

ফিল্ডারের ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্যও দর্শকের আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠেছে। মন্টগোমারি তার ব্যক্তিত্বের এক অদ্ভুত, সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না- এমন দিকের কথা বলেছেন। ডালাসের কাছে আকর্ষণীয় তার শৈল্পিক সংবেদনশীলতা ও সাফল্য।

তবে অন্যদের মতে, এর পেছনে আরও সহজ একটি কারণ রয়েছে। ছবিতে ফিল্ডারকে নারীদের কথা মন দিয়ে শুনতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একজন লিখেছেন, মানুষ সম্মিলিতভাবে আবেগের দিক থেকে এতটাই স্পর্শবঞ্চিত যে কেউ প্রশ্ন করে উত্তর মন দিয়ে শুনলেই তা অসাধারণ মনে হয়। 

অবশ্য সবাই যে ফিল্ডারের প্রতি এই আকর্ষণে মজেছেন, তা নয়। কেউ কেউ তার অস্বস্তিকর আচরণে বিরক্ত। আবার কারও ধারণা, ভক্তেরা নিজেদের তুলনায় বেশি নার্ভাস বা কম আত্মবিশ্বাসী কাউকে আকর্ষণীয় মনে করছেন।

তবু ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ ফিল্ডারের যৌন আবেদন নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত টিভি সিরিজ ‘দ্য কার্সে’ তাকে এমন একটি চরিত্রে দেখা গিয়েছিল, যার পুরুষাঙ্গ অস্বাভাবিকভাবে ছোট।

ছবিটি নিয়ে মন্তব্য জানতে ফিল্ডারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে ২০২২ সালে কৌতুকশিল্পী কেট বার্লান্টের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি কিছুটা রসিকতার সুরে জানিয়েছিলেন, অভিনয়ের সময় তার প্রধান লক্ষ্যই হলো দর্শকের মধ্যে যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি করা।
ad728
ad600