ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরেছেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
রবিবার দ্বিতীয় দফার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ভোটে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি।
প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ৮০ বছর বয়সী লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তার ৪৫ বছর বয়সী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট।
প্রথম দফার নির্বাচনে ফ্লাভিওর কাছে সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন লুলা। ওই ফল তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। প্রথম দফায় তিনি ২২ লাখ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফায় ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪৩ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন।
ব্রাজিলে ১৯৮০-এর দশকে গণতন্ত্র ফিরে আসার পর এই প্রথম কোনো প্রার্থী প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পেলেন।
ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করাই ছিল লুলার জয়ের মূল কৌশল। প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড ২১.৮ শতাংশ ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন, তবে দ্বিতীয় দফায় এই হার কমে ১৯.২১ শতাংশে নেমে আসে। সমর্থকদের ভোটে ফেরাতে পারাই লুলার এই অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়ার পথ সুগম করে।
ভোটের ফল নিশ্চিত হতেই সাও পাওলোর রাজপথে লুলার সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এই শহর থেকেই তিনি পুরো ভোট গণনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। যে হোটেলে তিনি অবস্থান করছিলেন, সেখানেও নেমে আসে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
লুলার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রেজিনালদো লোপেস এই জয়কে গণতন্ত্রের বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যা দেন।
তার ভাষ্য, ব্রাজিলের সাধারণ মানুষ বিশ্বকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে উগ্র ডানপন্থা মূলত একটি ফ্যাসিবাদী আদর্শ। এটি কৃষ্ণাঙ্গ, দরিদ্র, রাষ্ট্র ও সমকামী মানুষদের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এখন সময় এসেছে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে নতুন করে পুনর্গঠন করার।
লুলার রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে সাও পাওলোর শিল্পাঞ্চলের একজন সাধারণ শ্রমিক নেতা হিসেবে। চরম গ্রামীণ দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা সাবেক এই কারখানা শ্রমিক পরে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
১৯৮৯, ১৯৯৪ এবং ১৯৯৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একাধিকবার হেরে গেলেও তিনি দমে যাননি। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালে ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম শ্রমজীবী শ্রেণির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন লুলা। দেশের সংবিধান অনুযায়ী টানা দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন শেষে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের ক্ষমতায় ফেরেন।
লুলার কাছে ফ্লাভিওর এই পরাজয় বলসোনারো পরিবারের জন্য এক বিশাল বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। ফ্লাভিওর বাবা, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ছেলে নির্বাচনে জিতলে তার মুক্তি এবং সরকারে প্রভাব পাওয়ার একটি বড় আশা তৈরি হয়েছিল, যা ভেস্তে গেছে।
এই ফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও বড় এক ধাক্কা। বলসোনারো পরিবারের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মিত্র হিসেবে ট্রাম্প আশা করেছিলেন যে ফ্লাভিওই ব্রাজিলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবেন।















