ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে আর হালকাভাবে নিতে চাইছে না ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দেশজুড়ে সিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে দলটির ‘মুখোশ’ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি। এ লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতিন নবীন দলের সভাপতি হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে বিজেপির সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি।
জাতীয় যোগ্যতা নির্ধারণী পরীক্ষার (নিট) প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল সিজেপি। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন জেন-জি তরুণেরাও। আন্দোলনের চাপে ধর্মেন্দ্রকে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছিল।
এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ‘সার’ প্রক্রিয়ার নামে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ।
বিজেপির আশঙ্কা, আগামী লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে চাপে ফেলতে বিরোধীরা ‘অরাজকতা’ তৈরির চেষ্টা করবে। তাই আগেভাগেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামতে চাইছে দলটি।
বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচির পাশাপাশি আগামী এক সপ্তাহ সাংবাদিক বৈঠকে আরও একটি প্রশ্ন তুলবেন দলের শীর্ষ নেতারা—‘ভারত কি বাংলাদেশ, নেপালের পথে হাঁটবে?’
দেশে কীভাবে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা চলছে, তা তুলে ধরতে বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। বৈঠকে রাজ্য নেতাদের মধ্যে কর্মসূচির দায়িত্ব বণ্টন করেন শমীকরা।
এই কর্মসূচিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই বার্তা সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে চায় বিজেপি।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠক শেষে জেলার নেতাদের জানানো হয়েছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেও মিছিল করা হবে। প্রতিটি মিছিলে ১০ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ নেতার ভাষ্য, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের এলাকায় ২০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বাড়িতে যাবেন দলের নেতারা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন এবং দেশে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা করবেন। পাশাপাশি, যুব ও শিক্ষার্থীদের সমর্থন পেতে রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিনারের আয়োজন করা হবে।
২০২৭ সালের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও উত্তরাখণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপিকে চাপে রাখতে বিরোধীরা আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরালো করতে চাইবে। অন্যদিকে, বছর শেষ হওয়ার আগেই সিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের আন্দোলনের গতি কমিয়ে দিতে চায় বিজেপি।
সূত্র : এই সময়


















