সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে পঞ্চম দফার গণনায় মিলেছে প্রায় ৮৯ লাখ টাকা। নগদ টাকার পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা। চলতি বছরে পাঁচ দফার গণনা শেষে দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট নগদ পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকা। এর সঙ্গে স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য যোগ হয়নি।
গতকাল শনিবার সকালে ৩৪ দিন পর প্রকাশ্যে দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা শুরু হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গণনা শুরুর সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত সব টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হবে। সেখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং আনসার সদস্যদের বেতন পরিশোধ করা হবে।
তার ভাষ্য, মাজারের জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় এক মাস লাগতে পারে। এরপর প্রতিদিন দানের টাকা গণনার ব্যবস্থা করা হবে। তবে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এর আগে আরও একবার গণনা হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়েছে।
গণনায় পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা। এর পাশাপাশি পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা স্বর্ণ, ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা এবং ১৮ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা।
বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বায়সা, ৬৫ আমিরাতি দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপি, ১৭ কাতারি রিয়াল, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি পয়সা, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।
প্রাপ্ত স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৩৮ টাকা। এই মূল্য নগদে পাওয়া অর্থের অতিরিক্ত।
এবারের গণনায় পাওয়া প্রায় ৮৯ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় চলতি বছরে মোট পাঁচ ধাপে নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকা।
এর আগে গত ২২ জুন ২০২৬ প্রথম দফার গণনায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত হওয়ায় মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা।
সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চতুর্থ দফার গণনায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। ওই দফাতেও নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল।
চার দফা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা। পঞ্চম দফার প্রায় ৮৯ লাখ টাকা যুক্ত হওয়ায় সেই অঙ্ক বেড়ে ৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকায় পৌঁছেছে।


.jpg)

















