বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি মিল-কারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে থাকা দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজও শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে বন্ধ কারখানা চালু এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সকল শক্তি নিয়ে দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দাঁড়াব। ২০২৪ সালে যেভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও একইভাবে তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করছে এবং এ জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে চায়। এ পরিস্থিতিতে জনগণ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশ গঠনের সময়। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়। কোনোভাবেই যেন ষড়যন্ত্রকারীরা সেই সুযোগ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা সকল শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সঠিক জবাব দেবো। দেশের মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সঙ্গে নিয়ে তাদের জবাব দেওয়া হবে।’ এ সময় তিনি সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, ‘করব কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
বিগত ১৫-১৬ বছরে যারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি, ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, তাদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। এমনকি দেশের মিল-কারখানা ধ্বংসেরও চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিল-কারখানাকে দেশের মানুষের পাশাপাশি শ্রমিকদের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খেটে খাওয়া মানুষ ও শ্রমিকেরা। তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাই শিল্পকারখানা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি রয়েছে। সেসব দাবি বিবেচনা ও সমাধানের জন্য সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদারে দিনরাত কাজ করছে। দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে, সে লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে। দেশের বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো চালুর চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।
এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কাটাখালীতে পথসভা শেষে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তারেক রহমান। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।


.jpg)













