পরীমনি আজকে যে কাজটা করল, সেটা এভাবে না করলেও পারত সে। জনসম্মুখে যেভাবে একজন সাংবাদিককে চূড়ান্ত অপমান করল, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ছেলেটার এক্সপ্রেশন, চেহারা, কথাবার্তা শুনে মনেই হয়নি সে এমন কাজটা করতে পারে। এত ভিড়ে যে কোনোভাবে ধাক্কা লাগতে পারে, কিংবা সে অন্য কারও ধাক্কায় নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
সেভাবেই হয়তো কোনোভাবে লেগে গেছে। সঙ্গে সঙ্গেই সে ‘আপা’, ‘আপা’ বলে যেভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তাতে তার মানসিকতা অনেকটা বোঝা যায়।
আর ভিউর দুনিয়ায় অফিসের ফুটেজের চিন্তা বাদ দিয়ে অন্য কোনো চিন্তা করা সম্ভব কি না, সেটা এই বিটের সাংবাদিকরা ভালো বলতে পারবেন।
তারা রীতিমতো যুদ্ধে বের হন প্রতিদিন এবং যুদ্ধে জয়ী হয়ে অফিসে ফিরতে হয়। তাদের জন্য পরাজয় বলে কিছু নেই।
তাই, নিশ্চিত না হয়ে একজন সাংবাদিককে এভাবে অপমান করা কতটা যুক্তিযুক্ত? ছেলেটার গলায় ঝোলানো কার্ড দেখে জেনেছি, সে নামহীন পত্রিকার সাংবাদিকও না।
পরীমনি এইসব বিনোদন সাংবাদিকের সঙ্গেই কাটাচ্ছে বছরের পর বছর।
সিনেমা হিট না থাকা সত্ত্বেও এদের কাভারেজে শীর্ষ নায়িকার তকমা নিয়ে দৌর্দণ্ড প্রতাপ নিয়ে চলছে। তাদের জন্মদিনে দাওয়াত দিচ্ছে। তাদের নিয়ে ভিডিও পোস্ট করছে। তাদের হাত ধরে বসে আছে।
যদি সাংবাদিক ছেলেটার হাত দিয়ে ইচ্ছাকৃত স্পর্শ লেগেই থাকে, তাহলে প্রথমে তাকে গার্ড দেওয়া বাউন্সারদের গালি দিতে হবে, বলতে হবে, তোদের টাকা দিয়ে নিয়ে আসছি, মানুষ আমাকে স্পর্শ করে কীভাবে?
সেটা না হলে কাউকে দিয়ে সেই সাংবাদিককে কোথাও ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা যেত। কিংবা পত্রিকা সম্পাদকের কাছে বিচার দিয়ে তাকে চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া যেত।
ছেলেটা যদি নিরপরাধ হয়ে এই গালাগালি হজম করে, তার দায় কে নেবে?
সে যে সামাজিক হেনস্তার শিকার হবে কিংবা সাংবাদিক সমাজে ভর্ৎসনার শিকার হবে, তার দায় কে নেবে? যারা পরীমনির এই গালাগালিকে তার সাহস বলছেন, বাহবা দিচ্ছেন, তারা নিজেদের দিকে তাকাবেন একটু। কোনটা সাহস আর কোনটা অপমান, আলাদা করতে শিখবেন।
লেখা ফেসবুক থেকে সংগৃহীত


 (5).jpg)














