ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

সংসদের চতুর্থ অধিবেশন কাল, আলোচনায় যেসব বিষয়

ফাইরুজ তাসনিম
ফাইরুজ তাসনিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
সংসদের চতুর্থ অধিবেশন কাল, আলোচনায় যেসব বিষয়
চতুর্থ অধিবেশনে ছয়টি সরকারি বিল উত্থাপন ও আলোচনা হতে পারে।
সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য চলছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই আগামীকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বসছে জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন।

সংস্কার ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের বিপরীত অবস্থান সংসদের এই অধিবেশনেও প্রভাব ফেলতে পারে। অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও তা উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সরকারের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট নিজেদের উদ্যোগে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এবারের অধিবেশনে আলোচনার অন্যতম বিষয় হতে পারে।

অধিবেশনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। প্রথম দিন সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে।

আগামী জানুয়ারিতে নতুন অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকায় এবার অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ কার্যদিবস চলতে পারে।

অধিবেশনে ছয়টি সরকারি বিল উত্থাপন ও আলোচনা হতে পারে। সম্ভাব্য বিলগুলো হলো- পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬; বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বিল, ২০২৬; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬; ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) সংক্রান্ত বিল; সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) সংক্রান্ত বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) সংক্রান্ত বিল।

এ ছাড়া প্রশ্নোত্তর, জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ এবং সাধারণ আলোচনা থাকবে। বিরোধী দল কোনো বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলে সেটিও বিবেচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

তবে এবারের অধিবেশন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত সুপারিশমালা তৈরি করে জানুয়ারির অধিবেশনে তা উপস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধনের কোনো বিল এবারের অধিবেশনে আসবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরির চেষ্টা চলছে। জানুয়ারির সংসদ অধিবেশনে তা উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।

তবে বিরোধী দল এখন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে। তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে মতপার্থক্যের মধ্যেই নিজেদের উদ্যোগে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি পরিষদ গঠন করা হতে পারে। এতে জামায়াত থেকে তিন বা চারজন এবং জোটের অন্য শরিক দলগুলো থেকে একজন করে প্রতিনিধি রাখা হতে পারে।

সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদের বাইরের রাজনৈতিক নেতাদেরও পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উপকমিটি গঠন করা হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, পরিষদের কাজ, করণীয় ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তার ভাষ্য, লিয়াজোঁ কমিটি একটি প্রস্তাব তৈরি করে জোটের শীর্ষ নেতাদের কাছে দেবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিষদ গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
ad728
ad600