ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ির রান্নায় খাবারে মিশছে সিসা, মাজনিতেও ঝুঁকি

শাফিন জামান
শাফিন জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ির রান্নায় খাবারে মিশছে সিসা, মাজনিতেও ঝুঁকি
নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্নার সময় প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে।
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিলে রান্নার সময় খাবারে মিশছে মারাত্মক বিষাক্ত ধাতু সিসা। নতুন পাত্র প্রথম কয়েকবার ব্যবহারের সময় এর পরিমাণ আরও বেশি পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নয়, নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজনি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করলে খাবারে সিসা মেশার পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সিসা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। অথচ দেখতে চকচকে ও ভালো মনে হওয়া পাত্রেও থাকতে পারে এই বিষাক্ত ধাতুর ঝুঁকি।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গবেষণার ফলাফল জানানো হয়।

বিশ্বখ্যাত নেচার গ্রুপের জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজিতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তৈরি অনেক অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র পুরোনো স্ক্র্যাপ বা ভাঙাড়ি ধাতু গলিয়ে তৈরি করা হয়। যথাযথ মান যাচাই না হওয়ায় এসব ধাতুতে থাকা সিসা রান্নার পাত্রে থেকে যেতে পারে।

গবেষকরা বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সাতটি ব্যবহৃত পাত্র এবং বাজার থেকে কেনা ২০টি নতুন পাত্র পরীক্ষা করেন।

তাতে দেখা যায়, প্রতিটি পাত্র থেকেই রান্না করা খাবারে সিসা নির্গত হয়েছে।

নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্নার সময় প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে। খিচুড়িতে পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ৪২০ মাইক্রোগ্রাম।

অথচ শিশু ও ছোট বাচ্চাদের খাবারে সিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নির্ধারিত নিরাপদ সীমা প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ মাইক্রোগ্রাম।

বারবার ব্যবহারের ফলে খাবারে সিসার মাত্রা কিছুটা কমে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, তা কখনোই নিরাপদ মাত্রার নিচে নামে না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নতুন পাত্র স্টিলের তারের মাজনি দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করার পর রান্না করলে খাবারে সিসা মেশার পরিমাণ বেড়ে যায়।

না ঘষে ব্যবহারের তুলনায় এ ক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা খাবারে মিশতে পারে।

এ ছাড়া ধাতব খুন্তি দিয়ে খাবার নাড়লেও ঝুঁকি বাড়ে। টক বা অম্লীয় খাবার রান্নার ক্ষেত্রেও সিসা মিশে যাওয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রজেক্ট আনলেডেড’ গবেষণার পরিচালক ড. জেনা ফরসিথ উল্লেখ করেছেন, সিসা খালি চোখে দেখা যায় না। এর কোনো গন্ধ বা স্বাদও নেই।

তার ভাষ্য, দেখতে একদম চকচকে ও ভালো একটি পাত্র থেকেও পরিবারের খাবারে সিসা মিশতে পারে। শুধু দেখে কোন পাত্র নিরাপদ, তা বোঝার উপায় নেই পরিবারের সদস্যদের।

গবেষকদের মতে, এই ঝুঁকি কমানোর দায়িত্ব শুধু পরিবারের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না।

নিরাপদ রান্নার পাত্র নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মান ও নীতিমালা পর্যালোচনা করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

আইসিডিডিআর,বির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে (বিএফএসএ) রান্নার পাত্র থেকে খাবারে সিসা মিশে যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নিরাপত্তা মান নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ad728
ad600