ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ad728

বিশ্বজুড়ে চরম দারিদ্র্য ঝুঁকিতে আরও চার কোটি মানুষ

শাফিন জামান
শাফিন জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফেসবুকে শেয়ার
বিশ্বজুড়ে চরম দারিদ্র্য ঝুঁকিতে আরও চার কোটি মানুষ
সংকট মোকাবেলায় বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে খাদ্য ও জ্বালানির দাম আরও বেড়ে মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে চার কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সর্বশেষ কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের এই চাপ সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বলে আশঙ্কা বিশ্বব্যাংকের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের মজুদ কমছে। এতে জ্বালানির দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন এবং এল নিনোর প্রভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এ দাম ছিল ৬৯ ডলার। তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৭৯ ডলারে নামতে পারে।

খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি বছর খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। আগামী বছর বাড়তে পারে আরও ৭ শতাংশ। দুই বছরে সম্মিলিতভাবে এ বৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ১৮ শতাংশে।

যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে বিঘ্ন, এল নিনোর প্রভাবে ফসলের ক্ষতি এবং জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা ৭ শতাংশ কমার পূর্বাভাস রয়েছে।

অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোর ক্ষতি অব্যাহত থাকলে জ্বালানির দাম পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, জ্বালানির উচ্চমূল্য, কৃষ্ণসাগরে শস্যবাহী জাহাজে হামলা এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব একসঙ্গে দেখা দিলে বড় ধরনের খাদ্যসঙ্কট তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। খাদ্যপণ্যের দামও পূর্বাভাসের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে। এতে দাম ২০২২ সালের স্তর ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকের খাদ্যসঙ্কটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে জানিয়েছেন, একই সময়ে পণ্যের বাজার একাধিক বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

এদিকে, সংকট মোকাবেলায় বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার আগাম অর্থায়ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে সারের দাম ১৪ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সময়ে ধাতব পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৫ শতাংশ। বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের দাম নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত মূল্যবান ধাতুর দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ad728
ad600