বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও বাড়ছে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়। তবে প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হচ্ছে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাতে গুনতে হচ্ছে বেশি অর্থ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে ওমান থেকে। এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত। অন্যদিকে শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম খরচ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত দেশভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমবারের মতো রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ ১০ দেশ থেকে অর্থ পাঠানোর খরচের তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ করেছে।
এতে দেখা যায়, সাধারণত অল্প পরিমাণ অর্থ পাঠাতে খরচের হার বেশি। অর্থের পরিমাণ বাড়লে কমে আসে খরচের হার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ছিল ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এপ্রিল-জুন সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮২ শতাংশে।
২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাঠাতে প্রথম তিন মাসে গড়ে খরচ হয়েছিল ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পরের তিন মাসে তা বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তবে ২০১ থেকে ৫০০ ডলার পর্যন্ত পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা কমেছে। জানুয়ারি-মার্চে এ পরিমাণ অর্থ পাঠাতে গড় খরচ ছিল শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। এপ্রিল-জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশে।
অন্যদিকে, ৫০০ ডলারের বেশি অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে খরচ সামান্য বেড়েছে। প্রথম তিন মাসে এ ক্ষেত্রে গড় খরচ ছিল শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। এপ্রিল-জুন সময়ে তা বেড়ে হয়েছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল। কম আয়ের শ্রমিকদের জন্য এসব দেশে ব্যাংক হিসাব খোলাও কঠিন। ফলে শুরু থেকেই এসব দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ তুলনামূলক বেশি।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অর্থ পাঠানোর খরচ আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা দেশে মোট ৮৫৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ দেশ থেকেই এসেছে ৭৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ মোট রেমিট্যান্সের ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ এসেছে এই ১০ দেশ থেকে।
দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৮ কোটি ৭৪ লাখ ডলার।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৭ কোটি ৪৯ লাখ, মালয়েশিয়া থেকে ৬৬ কোটি ৬৭ লাখ এবং ইতালি থেকে ৬০ কোটি ২২ লাখ ডলার এসেছে। অন্যদিকে, কুয়েত থেকে ৪৪ কোটি ১৮ লাখ, সিঙ্গাপুর থেকে ৪১ কোটি ৮১ লাখ, ওমান থেকে ৪১ কোটি ২৩ লাখ এবং কাতার থেকে এসেছে ৩৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার।
শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশের মধ্যে অর্থ পাঠানোর খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এপ্রিল-জুন সময়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাঠাতে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে ওমান থেকে। দেশটি থেকে এই পরিমাণ অর্থ পাঠাতে গড়ে খরচ হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরচ সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দেশটি থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে গড়ে ব্যয় হয়েছে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কাতার থেকে খরচ হয়েছে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা কুয়েত থেকে খরচ হয়েছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর সৌদি আরব থেকে একই পরিমাণ অর্থ পাঠাতে গড়ে ব্যয় হয়েছে ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পাঠাতে খরচ হয়েছে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্য থেকে এ খরচ ২ দশমিক ১০ শতাংশ। সিঙ্গাপুর থেকে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ইতালি থেকে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সবচেয়ে কম খরচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটি থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ পাঠাতে গড়ে ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।


















